যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তীব্র সামরিক উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকলেও কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন উভয় পক্ষ। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে আলোচনার দরজা এখনো খোলা। অন্যদিকে ইরানও জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বার্তা আদান–প্রদান চলছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গতকাল রোববার রাতে বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র সব সময় কূটনৈতিক সমাধানের জন্য প্রস্তুত। তবে সেই আলোচনা হতে হবে বাস্তবসম্মত এবং এমন একটি চুক্তির ভিত্তিতে, যা ইরান মেনে চলতে রাজি থাকবে।"

আজ সোমবার তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, মার্কিন হামলার পরও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রয়েছে। তিনি বলেন, “মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আমরা বার্তা পেয়েছি। বিস্তারিত বলতে চাই না। মূল বিষয় হলো, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আমাদের কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে এবং কয়েকজন মধ্যস্থতাকারী আমাদের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাব ও ধারণা পৌঁছে দিয়েছেন।”

টানা নবম দিনের মতো গতকাল দিবাগত রাতে ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইরান। এই সংঘাতের ফলে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ চরম আকার ধারণ করেছে। ইরানের দাবি, সেখানে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ঘটে সেগুলো অচল হয়ে পড়েছে।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা জর্ডানের আকাবায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমানঘাঁটি, কুয়েতের আল-আদিরি ক্যাম্প ও আলী আল–সালেম বিমানঘাঁটি এবং সিরিয়ায় মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এদিকে বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আজ সকালে দেশটিতে সতর্কসংকেত বাজানো হয়েছে। কুয়েতের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা ইরানের পাঠানো ড্রোন প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৭ জুন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর সেই সমঝোতা কার্যত ভেঙে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পর ইরানও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া ওই সমঝোতা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে।

বর্তমানে সংঘাতের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে হরমুজ প্রণালি। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে ফি আদায় করতে চায় ইরান, যার তীব্র বিরোধিতা করছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার সক্ষমতা কমিয়ে দিতে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন দফায় হামলা শুরু করেছে তারা।

ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজের খবর অনুযায়ী, আজ ভোরে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তাবরিজ, চাবাহার, কোনারাক, বন্দর মাহশাহর ও বন্দর ইমাম খোমেনি শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। আন্তর্জাতিক জলপথে হামলা বন্ধের শর্ত দিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও সতর্ক করে বলেছেন, এই হামলা বন্ধ না হলে সামরিক অভিযান চলবে, তবে কূটনৈতিক সমাধানের পথ এখনো খোলা রয়েছে।