স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো শহরের আকাশে হঠাৎ এক সুবিশাল ড্রাগনের উপস্থিতি ঘিরে তৈরি হয়েছিল তীব্র রহস্য। রিভার ক্লাইডের তীরে ওভো হাইড্রোর পাশ দিয়ে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে এই অদ্ভুত দৃশ্যটি দেখতে পান এসটিভি রেডিওর উপস্থাপক ইউয়েন ক্যামেরন। সকাল পৌনে ছয়টার দিকে কুয়াশাচ্ছন্ন আকাশের বুকে শান্ত ভঙ্গিতে ভেসে বেড়াতে দেখা যায় কল্পকাহিনির এই ডানাওয়ালা দৈত্যটিকে।
চোখের সামনে এমন অবিশ্বাস্য দৃশ্য দেখে ক্যামেরন দ্রুত তার ফোনে ভিডিও ধারণ করেন এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন। মুহূর্তেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায় এবং নেট দুনিয়ায় শুরু হয় তুমুল আলোচনা। রূপকথার ড্রাগন কি বাস্তবে নেমে এল—এমন নানা তত্ত্ব ও কৌতুক ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
তবে কয়েক দিনের মধ্যেই এই রহস্যের সমাধান হয়ে যায়। জানা যায়, এটি কোনো পৌরাণিক প্রাণী নয়, বরং বিজ্ঞানের এক অনন্য সৃষ্টি। মূলত এইচবিওর জনপ্রিয় থ্রিলার সিরিজ ‘হাউস অব দ্য ড্রাগন’-এর ড্রাগন ‘সাইর্যাক্স’-এর একটি নিখুঁত রিমোট-নিয়ন্ত্রিত মডেল এটি। জার্মানির খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান ‘এয়ারস্টেজ’ এই যান্ত্রিক ড্রাগনটি তৈরি করেছে। কার্বন ফাইবার, ফোম এবং পায়ে লুকানো ক্ষুদ্র ইঞ্জিনের সমন্বয়ে তৈরি ১৩ কেজি ওজনের এই মডেলটি অনায়াসেই বাতাসে ভেসে থাকতে পারে।
ড্রাগনটির চালক ডেনিস গুটোওস্কি অত্যন্ত গর্বের সাথে জানান, ‘২৩টি সচল যন্ত্রাংশের মেলবন্ধনে আমরা এই সুন্দর ড্রাগন বানিয়েছি। এর রাডার, প্রোপেলার, লেজ এমনকি ডানাগুলোও নড়াচড়া করে। সাধারণ একটি আরসি প্লেন ওড়ানোর চেয়ে ড্রাগন ওড়ানো সম্পূর্ণ আলাদা ও রোমাঞ্চকর এক অভিজ্ঞতা।’
এর আগে লন্ডনের আকাশেও প্রচার চালানো হয়েছিল এই যান্ত্রিক ‘সাইর্যাক্স’-কে। কয়েক মাসের নিবিড় গবেষণা ও সূক্ষ্ম কারিগরি দক্ষতার ফসল এই কৃত্রিম ড্রাগনটি ভোরবেলায় স্কটল্যান্ডবাসীকে এক বড়সড় বিস্ময়ের মুখে ফেলেছিল।