শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে বৈশ্বিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে ১৬ বছরের কম বয়সিদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করছে ভিয়েতনাম।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের পর্যালোচিত একটি খসড়া অধ্যাদেশ থেকে জানা গেছে, প্রস্তাবিত এই নীতি বাস্তবায়িত হলে ১৬ বছরের কম বয়সি কোনো কিশোর-কিশোরী এই প্ল্যাটফর্মে কোনো কনটেন্ট বা তথ্য পোস্ট করা, অন্যের পোস্টে মন্তব্য (কমেন্ট) করা কিংবা প্রতিক্রিয়া জানানোর (রিঅ্যাক্ট) সুযোগ পাবে না।
প্রস্তাবিত নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ১৬ বছরের কম বয়সীদের সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হলে মা-বাবা বা আইনি অভিভাবকের পরিচয় ও তথ্য ব্যবহার করে নিবন্ধন করতে হবে। অনলাইনে সন্তানরা কী ধরনের কনটেন্ট দেখছে এবং সেখানে কতটুকু সময় কাটাচ্ছে—তা পর্যবেক্ষণের পুরো দায়ভার থাকবে অভিভাবকদের ওপরই।
অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কম বয়সি ব্যবহারকারীদের সহজে সনাক্ত করা যায় এবং তাদের বয়স উপযোগী কনটেন্ট প্রদর্শন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
ভিয়েতনামের সংস্কৃতিবিষয়ক উপমন্ত্রী ফান তাম নতুন নিয়ম সম্পর্কিত এক সভায় জানান, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য শিশুদের সোশাল মিডিয়া ব্যবহারে অতিরিক্ত বাধা তৈরি করা নয়। বরং তারা যেন একটি নিরাপদ ও বয়স উপযোগী পরিবেশে সোশাল মিডিয়া ব্যবহার করতে পারে এবং যেকোনো ক্ষতিকর ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত থাকে, তা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
খসড়া অধ্যাদেশে সোশাল মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে শিশুদের অ্যাকাউন্টের গোপনীয়তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সহিংসতা, পর্নোগ্রাফি, জুয়া, মাদক এবং আত্মহত্যার মতো ক্ষতিকর ও সংবেদনশীল বিষয় সম্পর্কিত কনটেন্টগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সনাক্ত ও ব্লক করার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
অনলাইন নিরাপত্তায় শুধু সোশাল মিডিয়াতে সীমাবদ্ধ থাকছে না ভিয়েতনাম। অপ্রাপ্তবয়স্কদের অনলাইন গেম খেলার ক্ষেত্রেও নতুন সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে খসড়া নীতিতে। এতে বলা হয়, গেম প্রস্তুতকারক বা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবশ্যই ব্যবহারকারীর বয়স যাচাই করতে হবে এবং অভিভাবকের অধীনে অ্যাকাউন্ট নিবন্ধন নিশ্চিত করতে হবে। কোনো শিশু যেন দিনে সর্বোচ্চ ৬০ মিনিটের বেশি অনলাইন গেম খেলতে না পারে, সেই প্রযুক্তিগত বাধ্যবাধকতাও রাখা হচ্ছে।
বিশ্বব্যাপী শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ইন্টারনেটের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, ভিয়েতনামের এই উদ্যোগ তারই ধারাবাহিক অংশ। সম্প্রতি ফ্রান্সের আইনপ্রণেতারা ১৫ বছরের কম বয়সিদের সোশাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা অনুমোদন করেছেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া প্রথম দেশ হিসেবে এমন ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। তবে ভিয়েতনামের এই খসড়া প্রস্তাবটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি এবং তা চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে পরিমার্জন করা হতে পারে।