বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামের কিশোরী সাইংসাইংওয়াং মারমা স্বপ্ন দেখছেন ক্যানভাসে পুরো বিশ্বকে রাঙানোর। তার তুলির আঁচড়ে ফুটে ওঠে মনের গভীরে জমে থাকা অব্যক্ত সব অনুভূতি। থলি পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সাইংসাইংওয়াং বর্তমানে কচ্ছপতলী আলোর পাঠশালার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তিন ভাইবোনের মধ্যে তিনি সবার বড়।
दुर्गম পাহাড়ের প্রতিকূল পরিবেশের মাঝে বড় হলেও ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকার প্রতি প্রবল নেশা তৈরি হয়েছে তার। অবসরে কাগজ, খাতা কিংবা ঘরের দেয়াল—যেখানেই সুযোগ পেয়েছেন, নিজের সৃজনশীলতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন এই কিশোরী। পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে তিনি নিজের দক্ষতার উন্নয়ন ঘটাচ্ছেন। শিল্পের প্রতি এই ভালোবাসাকে কেবল শখ হিসেবে নয়, বরং মনের ভাব প্রকাশের অন্যতম সুন্দর মাধ্যম হিসেবে দেখেন তিনি।
ভবিষ্যতে একজন বড় মাপের চিত্রশিল্পী হওয়ার স্বপ্ন দেখেন সাইংসাইংওয়াং। তার এই স্বপ্ন পূরণে পরিবারের সদস্যরা সব সময় সাহস ও উৎসাহ জুগিয়ে যাচ্ছেন। স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার প্রবল আগ্রহ রয়েছে তার। তবে তার লক্ষ্য আরও দূরে; আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একজন দক্ষ শিল্পী হিসেবে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করতে চান তিনি।
সাইংসাইংওয়াংয়ের এই পথচলা প্রসঙ্গে কচ্ছপতলী আলোর পাঠশালার সহকারী শিক্ষক চৌনি মারমা বলেন, ' সাইংসাইংওয়াং মারমার মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিভাবান শিক্ষার্থীরা যদি যথাযথ সুযোগ-সুবিধা ও সঠিক প্রশিক্ষণ পায়, তবে তারা দেশের শিল্প ও সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।'
পাহাড়ের এই তরুণ প্রতিভার স্বপ্নপূরণে সমাজ ও প্রশাসনের বিশেষ নজর থাকবে এবং একদিন তিনি আন্তর্জাতিক ক্যানভাসে বাংলাদেশের নাম তুলে ধরবেন—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সকলের।