১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনার প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক এবং সেই আসরের গোল্ডেন বল ও বুট জয়ী মারিও কেম্পেস। আরও একটি বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার যাত্রার আগে তাঁর ভাবনা ও প্রত্যাশা নিয়ে কথা বলেছেন এই ফুটবল কিংবদন্তি।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লাওতারো মার্তিনেজের গোলের প্রভাব সম্পর্কে কেম্পেস বলেন, "এটা এমন একটা গোল, যা কেউ কখনো ভুলবে না। লাওতারো নয়, আমি নই, টিভি পর্দায় সরাসরি দেখা আর্জেন্টিনার সমর্থক—কারও পক্ষেই ভোলা সম্ভব নয়। বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে গোল করার সৌভাগ্য সবার হয় না, লাওতারো সেটা করে দেখিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শহরে আমি আর্জেন্টিনার জার্সি পরা সমর্থক দেখছি। খেলোয়াড়াও ভক্তদের ভালোবাসা উপভোগ করছে।"
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালের সাথে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের তুলনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, "দেখুন, বিশ্বকাপ বিশ্বকাপ-ই। এর সঙ্গে আর অন্য কোনো কিছুর তুলনা হয় না। ও এখনই বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকারদের একজন। ইন্টারের হয়ে, জাতীয় দলের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে যাচ্ছে। মনে রাখবেন, ইন্টারে সে বিদেশি হয়েও দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছে, অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পেয়েছে।"
ফাইনালের শুরুর একাদশে লাওতারোর জায়গা পাওয়া নিয়ে কেম্পেস বলেন, "আমি আসলে ঠিক জানি না। আমি শুধু জানি, আর্জেন্টিনার কৌশলে মেসির সঙ্গে একজন স্ট্রাইকারের প্রয়োজন পড়ে। সেটা হুলিয়ান আলভারেজ হতে পারে, আবার লাওতারো মার্তিনেজও হতে পারে। ফুটবল এখন অনেকটাই বদলে গিয়েছে, বেঞ্চ থেকে নেমেও ম্যাচের গতি পরিবর্তন করে ফেলতে পারে অনেকে। সে যে খেলাটা দেখিয়েছে, সেমিফাইনালের জন্য সেটাই ছিল উপযুক্ত।"
লাওতারো ও হুলিয়ান আলভারেজের মধ্যে তুলনা করতে নারাজ এই কিংবদন্তি। তাঁর মতে, "আমি আসলে দুজনকে কোনো তুলনায় আনতে চাই না। দুজনই নিজেদের কাজটা সঠিকভাবে করে আর মেসি তাদের কাজ সহজ করে দেয়।"
একজন ফরোয়ার্ড হিসেবে দুজনের খেলার ধরন বিশ্লেষণ করে তিনি বলেন, "লাওতারো পেনাল্টি বক্সের খেলোয়াড়, ওর জন্মই হয়েছে গোল করার জন্য। অন্যদিকে হুলিয়ান সৃষ্টিশীল খেলোয়াড়, ডিফেন্সকে নিয়ে খেলতে পছন্দ করে সে। আশা করি, কালকের (আজ) পর বলতে পারব, দুজনই দুবার করে বিশ্বকাপ জিতেছে। স্কালোনি খুব ভাগ্যবান, এমন দুজন খেলোয়াড় একসঙ্গে তাঁর কাছে আছে। ম্যাচের পরিস্থিতি দেখে সে যাকে ভালো মনে করে তাকে নামাবে।"
লাওতারো মার্তিনেজের প্রতি তাঁর পরামর্শ হলো, "নিজের মতো খেলো। তুমি যেটা সব সময় করে এসেছ, সেটাই করো। বড় খেলোয়াড় চাইলে বড় ম্যাচকে আর দশটা সাধারণ ম্যাচের মতো করেই ভাবতে হবে। এতে মাথায় আর বাড়তি কোনো চাপ পড়ে না। লাওতারো এর আগেও চাপের মধ্যে নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলেছে, ওকে তাই আর বাড়তি কিছু বলার প্রয়োজন দেখি না।"
স্পেনের বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচটি কেমন হবে, সে বিষয়ে কেম্পেস বলেন, "আশা তো করছি একটা টান টান উত্তেজনার জমজমাট ম্যাচ দেখার। কিন্তু সেটা তো আর সব সময় হয়ে উঠে না। দুই ফেবারিট দল একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে, জমজমাট হওয়ারই কথা। সমানে সমানে একটা খেলা হবে। যে মাঠে বল ধরে রেখে প্রতিপক্ষের ওপর প্রেস করতে পারবে, তারাই ভালো করবে। কারণ, আর্জেন্টিনাও যেমন এই কৌশলে পারদর্শী, স্পেনও একইভাবে পারদর্শী। এককথায় বলা যায়, পোট্রেরো বনাম টিকিটাকা। রাস্তায় বড় হওয়া অনিশ্চিত ফুটবল বনাম ছকে বাঁধা ফুটবল; এই ম্যাচ বিরক্তিকর না হওয়ারই কথা।"