বিশ্বকাপ ফাইনাল মানেই কেবল ৯০ মিনিটের ফুটবল লড়াই নয়, বরং বিশ্বের বৃহত্তম ক্রীড়া মঞ্চের এক জমকালো আয়োজন। এবার নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে থাকছে নানা চমক ও নতুনত্ব।

সমাপনী অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো হাফটাইম শো এবং বিশেষ পুরস্কার—সব মিলিয়ে পুরো দিনটি সাজানো হয়েছে বর্ণাঢ্য আয়োজনে।

ফাইনাল শুরুর প্রায় দেড় ঘণ্টা আগে স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টায়) শুরু হবে সমাপনী অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করবেন অস্কারজয়ী শিল্পী জেনিফার হাডসন। এছাড়া মঞ্চ মাতাবেন রবি উইলিয়ামস, লরা পাউসিনি, নিকোল শেরজিঙ্গার এবং জনপ্রিয় ইউটিউবার আইশোস্পিড। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন হলিউড তারকা টম ক্রুজ।

বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম সুপার বোলের আদলে ফাইনালে হাফটাইম শো-এর আয়োজন করা হয়েছে। ১১ মিনিটের মূল পরিবেশনায় অংশ নেবেন ম্যাডোনা, শাকিরা, জাস্টিন বিবার এবং দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় ব্যান্ড বিটিএস। পুরো আয়োজনের তত্ত্বাবধানে থাকবেন কোল্ডপ্লে ব্যান্ডের প্রধান গায়ক ক্রিস মার্টিন।

তবে ১১ মিনিটের মূল অনুষ্ঠানের পাশাপাশি মঞ্চ তৈরি ও সরিয়ে নেওয়ার সময়ের কারণে বিরতি ২০ থেকে ২৫ মিনিট বা তার চেয়েও বেশি দীর্ঘ হতে পারে। যদিও ফুটবলের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা আইএফএবির নিয়ম অনুযায়ী বিরতি সর্বোচ্চ ১৫ মিনিট হওয়ার কথা। বিরতি দীর্ঘ হওয়ার কারণে দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর আগে খেলোয়াড়দের অতিরিক্ত ওয়ার্মআপ করার প্রয়োজন হতে পারে।

ম্যাচ শেষে চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়কের হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি তুলে দেবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। আতশবাজি, কনফেত্তি ও আলোকসজ্জার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হবে নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার মুহূর্তটি।

এবারই প্রথম বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্যদের জন্য বিশেষ চ্যাম্পিয়নশিপ রিং চালু করেছে ফিফা। চ্যাম্পিয়ন দলের ৩০ সদস্য এই আংটি পাবেন। পুরস্কার বিতরণীর সময় অধিনায়ক ও কোচকে প্রতীকীভাবে একই মাপের আংটি দেওয়া হবে এবং পরবর্তীতে প্রত্যেকের আঙুলের মাপ অনুযায়ী ব্যক্তিগত আংটি পৌঁছে দেওয়া হবে।

আর্থিক প্রাপ্তির ক্ষেত্রে, চ্যাম্পিয়ন দল প্রাইজমানি হিসেবে ৫ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ৬১৫ কোটি টাকা) পাবে। ট্রফি, পদক ও ব্যক্তিগত পুরস্কারের বাইরে এটিই হবে ফাইনালের সবচেয়ে বড় আর্থিক প্রাপ্তি।

সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে, মাঝে ও পরে ফুটবল, বিনোদন, ইতিহাস ও উৎসবের এক অনন্য সমন্বয় প্রত্যক্ষ করবেন বিশ্বের কোটি কোটি দর্শক।