চট্টগ্রামের একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে দুই কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মূল পরিকল্পনাকারী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনের সহযোগী রোহেন মিয়া অন্যতম। রোববার দুপুরে নগরের চান্দগাঁও র‌্যাব ক্যাম্পে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়। গতকাল রাতে জেলা ও নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

রোহেন মিয়া ছাড়াও গ্রেপ্তার হওয়া বাকি ৮ জন হলেন মো. তুহিন (২২), আকবর হোসেন (৩৮), মো. আবদুল মুমিন (৩০), মো. মাসুদ মিয়া (২৭), মো. দিদার মিয়া (২২), মো. সানজাত হাসান (১৮), সৈকত হোসেন (১৮) ও মো. সাইফুদ্দিন (৩২)।

সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান জানান, সন্ত্রাসী ইমন প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে ফোন করে এককালীন দুই কোটি টাকা এবং মাসিক ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এই দাবি পূরণ না হওয়ায় ফোন করার দুই দিনের মাথায় ওই প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়। এতে ভাঙচুরের পাশাপাশি ৩৫ লাখ টাকা লুট করা হয় বলে তিনি জানান।

হামলার কৌশল বর্ণনা করে লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান বলেন, "গ্রেপ্তার আসামিরা স্বীকার করেছেন ঘটনার দিন তাঁরা জেলার রাউজান, চকবাজার, বাকলিয়া থেকে বহদ্দারহাট এলাকায় জড়ো হন। সেখান থেকে অটোরিকশায় বাকলিয়া অ্যাকসেস রোডে যান। সেখানে অ্যাকসেস রোডে একটি দল থাকে, যাতে র‌্যাব-পুলিশসহ কোনো বাহিনী এলে খবর দিতে পারে। আরেকটি দল ভবনটির পাশে অবস্থান নেয়। অপর দলটি ভবনে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায়।"

র‍্যাব কর্মকর্তা আরও জানান, এই হামলায় রোহেন মিয়াসহ তিনজন নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ঘটনায় ব্যবহৃত চারটি দেশি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, "গ্রেপ্তার ৯ জনের মধ্যে ৪ জনকে ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্যদের গ্রেপ্তার করা হয়।"

গত ১৩ জুলাই দুপুরে নগরের বাকলিয়া অ্যাকসেস রোড এলাকায় ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন) নামের ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে এই হামলা চালানো হয়। পরবর্তীতে চকবাজার থানায় অজ্ঞাতপরিচয় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, চাঁদা না দেওয়ায় সন্ত্রাসীরা এই হামলা চালিয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল কার্যালয়ে ঢুকে কম্পিউটার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মুঠোফোন ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। সেখানে একজনকে কুড়াল দিয়ে কম্পিউটার ও অন্যান্য সরঞ্জামে আঘাত করতে দেখা যায়। গ্রেপ্তার আসামিদের বর্তমানে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।