খুলনা নগরের নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকায় বস্তাবন্দী অবস্থায় কিশোরী আরফানা হোসেন নির্জনার (১৬) মরদেহ ফেলে পালিয়ে যাওয়া বাবার খোঁজ পাওয়া গেছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের ১০ দিন পর র‍্যাব ও পুলিশের এক যৌথ অভিযানে প্রধান আসামি হিসেবে ওই বাবাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার বেলা পৌনে তিনটার দিকে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া বাজার এলাকার একটি চায়ের দোকান থেকে আলিম হোসেন ওরফে আকাশকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সদর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (খুলনা জোন) মো. শফিকুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "যৌথ অভিযানে আলিম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুরু থেকেই তাঁকে ধরতে অভিযান চলছিল; কিন্তু তিনি বারবার অবস্থান পরিবর্তন করছিলেন। গতকাল শুক্রবার রাতেও অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তবে এর আগেই তিনি স্থান পরিবর্তন করেন। শনিবার আবার আগের অবস্থানে ফিরে এলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। বর্তমানে তাঁকে সদর থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আগামীকাল রোববার তাঁকে আদালতে পাঠানো হবে।"

এর আগে ১১ জুলাই কেএমপি সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান জানান, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আরফানার মা আরিফা ইয়াসমিন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁর জবানবন্দির ভিত্তিতেই পলাতক বাবার গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়।

পুলিশের তথ্যানুসারে, সম্প্রতি নিজের সিদ্ধান্তে বিয়ে করেছিলেন আরফানা। তবে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাঁকে বুঝিয়ে স্বামীর বাড়ি থেকে ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর আরফানা পুনরায় স্বামীর কাছে যেতে চাইলে মা-বাবার সঙ্গে তাঁর প্রায়ই বিরোধ হতো। গত ৮ জুলাই সন্ধ্যায় এই বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে মা আরফানাকে মারধর করেন। পরবর্তীতে বাবা কাঠের ফালি দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই মেয়ের মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মা-বাবা দুজনেই মাদকাসক্ত।

মেয়েকে হত্যার পর প্রমাণ গোপনের লক্ষ্যে মরদেহটি কবুতরের খাবার বহনে ব্যবহৃত একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে মোটরসাইকেলে করে খুলনা সদর থানার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে ফেলে আসেন বাবা। পরবর্তীতে পুলিশ ওই বস্তার ভেতর থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

প্রাথমিকভাবে পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় পরের দিন সদর থানার উপপরিদর্শক লাভলী আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে আরফানার মা মরদেহ শনাক্ত করেন। তদন্ত চলাকালীন জিজ্ঞাসাবাদে প্রথমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলেও পরবর্তীতে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। এরপর তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

নিহত আরফানা খুলনা নগরের বসুপাড়া বাঁশতলা এলাকার বাসিন্দা এবং সরকারি ইকবাল নগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে তার মা-বাবার একমাত্র সন্তান ছিল।