আগামী আগস্ট মাসের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে ‘প্রবাসী কার্ড’ প্রকল্পের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। প্রথম ধাপে প্রবাসী ডেবিট কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আজ শনিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রবাসী কার্ড সংক্রান্ত এক সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন।

শাহাদাৎ হোসেন জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সুবিধার কথা বলা হয়েছে। এই কার্ড চালুর মূল লক্ষ্য হলো প্রবাসীদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি, ক্ষমতায়ন, আর্থিক প্রণোদনা প্রদান এবং ‘ডুয়াল কারেন্সি কার্ডের’ মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ও ব্যাংকিং সুবিধা নিশ্চিত করা।

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ক্রীড়া কার্ড বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার প্রবাসী কার্ডের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন বলেন, “প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা বিভিন্ন ধরনের সুবিধা পাবেন। এগুলো হচ্ছে দেশে-বিদেশে ‘কমপ্লিমেন্টারি এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ’ ব্যবহার ও বিশেষ ইমিগ্রেশন বুথের মাধ্যমে দ্রুত সেবা, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ‘কমপ্লিমেন্টারি মিট অ্যান্ড গ্রিট’ সেবা, উড়োজাহাজের টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ে ডিসকাউন্ট, দেশে-বিদেশে ন্যায্যমূল্যে গাড়ি বুকিং ও সিগনেচার কার্ডে ‘এয়ারপোর্ট পিক অ্যান্ড ড্রপ’ সেবা, সরকারি হাসপাতালে প্রবাসী সেবা বুথ ও বেসরকারিতে ডিসকাউন্ট সুবিধা, কার্ডধারীর মৃত্যুতে বিনা খরচে লাশ পরিবহন, প্রবাসফেরতদের পুনর্বাসনের সুযোগ ও বিমা সুবিধা, জমি রেজিস্ট্রেশন, নামজারি, ইউটিলিটি, লাইসেন্স ও বৈদেশিক বিনিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়া। এ ছাড়া রেমিট্যান্স রিওয়ার্ড পয়েন্ট, ক্রেডিট স্কোরিং ও ঋণ সুবিধা, কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি টাকা পাঠানোসহ সহজে লেনদেন। এনআইডি, পাসপোর্ট ও কনস্যুলার সেবায় অগ্রাধিকার, ব্যাংক ও সরকার প্রদত্ত অন্যান্য সুবিধা দেওয়া।”

শাহাদাৎ হোসেন আরও জানান, আগামী মাসের মাঝামাঝির দিকে পরীক্ষামূলকভাবে এই কার্ডের উদ্বোধন হবে। প্রথম পর্যায়ে জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী ডেবিট কার্ড ইস্যু করা হবে। বৈঠকে জানানো হয়, চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে ৫০ হাজার এবং আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যে দুই লাখ প্রবাসী কার্ড বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে কার্ডের যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব। বৈঠকে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে সময়োপযোগী ও আধুনিক করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে বিশ্বের সব প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশি প্রবাসীরা যাতে এই কার্ডের আওতায় আসেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের খেয়াল রাখতে বলেছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ও মাহদী আমিন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসীকল্যাণ সচিব মোখতার আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক জামিল আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।