২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের বিভিন্ন ম্যাচ ও ফাইনালের টিকিটের আকাশচুম্বী দামের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন একদল প্রযুক্তিপ্রেমী রেডিট ব্যবহারকারী। আর/ওয়ার্ল্ডকাপ২০২৬টিকিটস নামের একটি সাব-রেডিটে যুক্ত প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার সদস্য এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে টিকিটের কালোবাজারি চক্রকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছেন।
এই আন্দোলনের ধরন অনেকটা ২০২১ সালের গেমস্টপ আন্দোলনের কথা মনে করিয়ে দেয়, যেখানে ওয়ালস্ট্রিট বেটস ব্যবহারকারীরা বড় বিনিয়োগকারীদের বিরুদ্ধে সংগঠিত হয়েছিলেন। এবার ফুটবল ভক্তরা ফিফা এবং কালোবাজারিদের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করছেন। এই লড়াইয়ের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে 'সিটসাইডকিক' নামক একটি স্বয়ংক্রিয় টুল। শিকাগোর বাসিন্দা লুক এই টুলটি তৈরি করেছেন। এআই সেবা ক্লড কোডের সহায়তায় মাত্র পাঁচ দিনে তৈরি এই ওয়েবসাইটটি চালু হওয়ার এক মাসের মধ্যেই প্রায় ১ লাখ ৭৮ হাজার মানুষ ব্যবহার করেছেন। টুলটি ফিফার টিকেটিং ওয়েবসাইটের ব্যাকএন্ড স্ক্যান করে রিয়েল-টাইমে টিকিটের প্রাপ্যতা এবং দামের তথ্য সাধারণ ভক্তদের সামনে তুলে ধরে, যার ফলে কোন স্টেডিয়ামের কোন ব্লকের টিকিট সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে তা সহজেই জানা যাচ্ছে।
ভক্তদের এই প্রতিরোধ ফিফার টিকেটিং কৌশলে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। ফিফা যেখানে টিকিট বিক্রিতে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নিচ্ছে, সেখানে রেডিট ব্যবহারকারীরা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি লেনদেনের ব্যাক-চ্যানেল তৈরি করে এই বাড়তি খরচ এড়িয়ে চলছেন। এসব গ্রুপে এখন ঘণ্টায় ঘণ্টায় লেনদেন চলছে। কোলম্যান নামের একজন মডারেটর জানান, তিনি এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চারটি টিকিট প্রতিটির জন্য ৫০০ ডলার করে কিনেছেন। এই টিকিটগুলো প্রথমে ওয়েবসাইটে ৮০০ ডলার এবং পরে ৯২০ ডলারে বিক্রি করা হয়েছিল। এআই টুলের কারণে তাঁর প্রায় ১ হাজার ৬৮০ ডলার সাশ্রয় হয়েছে।
ফিফার বিরুদ্ধে ভক্তদের অভিযোগ, সংস্থাটি ইচ্ছাকৃতভাবে টিকিটের কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। ডায়নামিক প্রাইসিং এবং আনক্যাপড রিসেল লিস্টিং ব্যবহারের ফলে ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের দাম কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে বলে তাঁদের দাবি। এই অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ার অভিযোগে নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির অ্যাটর্নি জেনারেল ইতিমধ্যে ফিফাকে সমন পাঠিয়েছেন। ইউসিএলের বিজনেস সাইকোলজির অধ্যাপক টমাস চামোরো-প্রেমুজিচের মতে, ফুটবল ভক্তদের এই প্রযুক্তিনির্ভর লড়াই এআই যুগের এক নতুন দৃষ্টান্ত এবং মানুষ ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। তাঁর মতে, এখন মানুষ এমন প্রযুক্তি তৈরি করছে যা মোকাবিলা করতে ফিফার মতো বড় সংস্থাকেও আরও উন্নত এআই ব্যবহারের প্রয়োজন হবে।
ফিফা তাদের ওয়েবসাইট থেকে ডেটা সংগ্রহের পথ বন্ধ করার চেষ্টা করলেও উদ্ভাবনী ভক্তরা প্রতিবারই নতুন পথ খুঁজে বের করছেন। এই ডিজিটাল লড়াইয়ের ফলে অনেক মারকিউ ম্যাচের টিকিটের দাম আগের তুলনায় কমে এসেছে। উদ্ভাবক লুক নিজেই এক সময় চড়া দামে টিকিট কিনেছিলেন, তবে তাঁর তৈরি টুলটি এখন অন্যদের সঠিক দামে টিকিট পেতে সাহায্য করছে। রেডিট ব্যবহারকারীদের এই সম্মিলিত প্রতিরোধ প্রমাণ করেছে যে, বড় সংস্থার দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ ভক্তরা এখন কতটা প্রযুক্তিসচেতন এবং সংগঠিত।