নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলে মেয়রের পদ থেকে পদত্যাগ করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন। একই সঙ্গে তিনি দ্রুত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

শনিবার সকালে নগরের শহীদ সাইফুদ্দিন খালেদ সড়কে অবস্থিত ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের চট্টগ্রাম কেন্দ্রের মিলনায়তনে ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপ উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র শাহাদাত হোসেন এই ঘোষণা দেন।

মেয়র পদে ২০২৯ সাল পর্যন্ত মেয়াদ রয়েছে উল্লেখ করে শাহাদাত হোসেন বলেন, "আমি জোর করে মেয়র পদে বসেননি। আদালতের আদেশে আমি মেয়রের দায়িত্ব নিয়েছি। আদালত আমাকে পাঁচ বছরের জন্য, অর্থাৎ ২০২৯ সাল পর্যন্ত মেয়র হিসেবে বৈধতা দিয়েছেন। তাই আদালতের এ আদেশের বিরুদ্ধে কারও অভিযোগ বা আপত্তি থাকলে পুনরায় আদালতের কাছে যেতে পারেন।"

তিনি আরও জানান, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অনুরোধ জানিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "একটি বৈধ ও সুষ্ঠু প্রক্রিয়ায় নির্বাচন চাই আমি। আর নির্বাচন হওয়া দরকার, যাতে সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে যেন সবাই নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন এবং জনগণ তাঁদের পছন্দমতো ভোট দিতে পারেন।"

বর্তমানে ওয়ার্ড কাউন্সিলর না থাকায় সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন মেয়র। তিনি বলেন, নির্বাচিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর থাকলে এখন যে সেবা দেওয়া হচ্ছে, তার চেয়ে আরও বেশি সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) প্রার্থী মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জয়ী হয়েছিলেন। তবে কারচুপির অভিযোগ এনে ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন বিএনপির প্রার্থী শাহাদাত হোসেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার চট্টগ্রামসহ ১২টি সিটি করপোরেশনের মেয়রদের অপসারণ করে। পরবর্তীতে ১ অক্টোবর নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের রায়ে মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর নির্বাচিত ঘোষণা বাতিল করে মামলার বাদী শাহাদাত হোসেনকে নির্বাচিত মেয়র ঘোষণা করা হয়। ৩ নভেম্বর তিনি মেয়র হিসেবে শপথ নেন।

অনুষ্ঠানে ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের আর্থিক সহায়তায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ নামক ওয়ান-স্টপ সিটিজেন সার্ভিস অ্যাপ্লিকেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করা হয়। সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন জানান, এই অ্যাপের মাধ্যমে নগরবাসী ঘরে বসেই এলাকার সমস্যার কথা জানাতে পারবেন এবং অভিযোগ সমাধানের অগ্রগতি জানতে পারবেন। পাশাপাশি সেবার মান ও কার্যক্রম নিয়ে মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকবে।

সিটি করপোরেশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সড়ক, মশা, আবর্জনা, সড়কবাতি, জলাবদ্ধতা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নর্দমা, গণশৌচাগার এবং অবৈধ স্থাপনার বিষয়ে অ্যাপের মাধ্যমে অবহিত করা যাবে। এছাড়া গৃহকর, ট্রেড লাইসেন্স, জন্মনিবন্ধন ও সড়ক কর্তনের অনুমোদনের মতো ডিজিটাল সেবাগুলোও এখানে পাওয়া যাবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান এবং নগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান, বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন এবং সিডিএ চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেনসহ সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সম্মানিত অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত থাকলেও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, সাঈদ আল নোমান এবং বিসিবি পরিচালক ইসরাফিল খসরু। ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন মুক্তকণ্ঠকে জানান, সংসদ সদস্যরা আসার কথা থাকলেও কক্সবাজারের চকরিয়ায় একটি অনুষ্ঠানে থাকায় উপস্থিত হতে পারেননি। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান মুক্তকণ্ঠকে জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে চকরিয়ায় থাকায় তিনি অনুষ্ঠানে যেতে পারেননি। তবে চকরিয়ার ওই অনুষ্ঠানে অন্য দুই সংসদ সদস্য ছিলেন না বলে জানান তিনি।