অন্তর্বর্তী সরকারকে অনির্বাচিত আখ্যা দিয়ে ওই সময়ের মার্কিন চুক্তির সমালোচনা করেছেন প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক। তাঁর মতে, নির্বাচনের আগে করা ওই চুক্তি ছিল দেশের স্বার্থবিরোধী, যার দায় বর্তমান সরকারের ওপর চাপানো উচিত নয়।
শুক্রবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ী মোড়ে ‘১৭ জুলাই যাত্রাবাড়ী প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। যাত্রাবাড়ী প্রতিরোধ দিবস বাস্তবায়ন কমিটি এই সভার আয়োজন করে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির কথা উল্লেখ করে নুরুল হক বলেন, ‘এই যে অনির্বাচিত সরকার, এই অন্তর্বর্তী সরকার কীভাবে নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সেই চুক্তি করেছিল? সেই চুক্তি ছিল দেশের স্বার্থ পরিপন্থী। আজকে বিভিন্ন টক শো ও টেলিভিশনে বিএনপিকে দায়ী করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ওই চুক্তি তো করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। যাদেরকে আপনারা জুলাইয়ের নায়ক বানিয়েছিলেন, তাদের সম্মতিতেই এসব হয়েছে।’
গণ অধিকার পরিষদের সভাপতির অভিযোগ, নির্বাচনের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে কৃত্রিম জনমত তৈরির মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
জুলাই সনদ ও সংস্কার নিয়ে চলমান বিতর্কের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে নুরুল হক বলেন, সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। তিনি মনে করেন, সংসদীয় কমিটি ও রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে বিদ্যমান জটিলতা দূর করা সম্ভব। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আলোচনা ও সমঝোতার পথেই সমাধান খুঁজতে হবে। নতুন সরকার গঠনের পরপরই রাজপথে হুমকি-ধমকির রাজনীতি করা সঠিক হবে না।’
সাম্প্রতিক আন্দোলনগুলো নিয়ে ডাকসু সাবেক ভিপি নুরুল হক সতর্ক করে বলেন, যৌক্তিক দাবি থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে আন্দোলন উসকে দেওয়া হয়েছে, যা স্বৈরাচারপন্থী শক্তিগুলোর জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে। তিনি ছাত্রসংগঠনগুলোকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার রোধে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, গোপন তৎপরতার চেয়ে প্রকাশ্য রাজনৈতিক চর্চাই গণতন্ত্রের জন্য শ্রেয়।
জামায়াত-শিবিরের অবদানের কথা স্বীকার করলেও নুরুল হক মন্তব্য করেন, তাদের কিছু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত অতীতে জাতীয়ভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। একই সঙ্গে তিনি নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বকে স্বাধীন রাজনৈতিক অবস্থান গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে নুরুল হক বলেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের প্রতিফলন দেখতে পান। তাঁর বিশ্বাস, আগামী পাঁচ বছরে দেশের উন্নয়নে কার্যকর নেতৃত্ব দিতে পারবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জুলাই আন্দোলনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণ ও মাদ্রাসাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি বিএনপির নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও কারাবাসের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তিনি।
জুলাই আন্দোলন নিয়ে একক বয়ান তৈরির সমালোচনা করে নুরুল হক বলেন, দুই বছর ধরে তিনি বলে আসছেন, জুলাইকে আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধের বয়ানের মতো একক কোনো ন্যারেটিভে (বয়ান) উপস্থাপন করা উচিত নয়। তাঁর অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে পৃষ্ঠপোষকতা করা হয়েছিল, যার রাজনৈতিক সমাধান না হলে ভবিষ্যতে সংকট তৈরি হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলন ছিল ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের ফসল, তবে আন্দোলনের শেষ দিকে বিদেশি শক্তির প্রভাব ছিল। তাঁর দাবি, কিছু ছাত্রনেতাকে বিদেশি অপশক্তি নিয়ন্ত্রণ করেছিল এবং পরিচিত মুখগুলোকে ব্যবহার করে অন্তর্বর্তী সরকারকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম, ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি নাজমুল ইসলাম এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান প্রমুখ।