চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে বড় জা-কে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ডাকাতির নাটক সাজানোর অভিযোগ উঠেছে ছোট জায়ের বিরুদ্ধে। গতকাল বৃহস্পতিবার আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে এই খুনের কথা স্বীকার করেছেন আসামি সুমাইয়া আক্তার (২৪)।
নিহত রিগান আক্তার (২৬) শাহরাস্তি পৌরসভার বাত্তলা ব্যাপারী বাড়ির সাইফুল ইসলামের স্ত্রী। গত বুধবার সকালে ওই বাড়ি থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনার পর রিগান আক্তারের বাবা কবির হোসেন শাহরাস্তি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
বুধবার দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করে। তদন্ত শেষে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে নিশ্চিত হন। এরপরই সুমাইয়া আক্তারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
তদন্তে জানা যায়, আসামি সুমাইয়া আক্তার ওই বাড়ির ইফতেহার আলমের (রিফাত) স্ত্রী। জবানবন্দিতে সুমাইয়া জানান, মঙ্গলবার মধ্যরাতে তাঁর বড় জা রিগানের সঙ্গে পারিবারিক হিংসা, বিবাদ ও কলহের জেরে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হলে তিনি রিগান আক্তারের গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে পরিবার ও প্রতিবেশীদের কাছে ঘটনাটি ডাকাতের হামলা বলে প্রচার করেন তিনি।
আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সুমাইয়া জানান, "মঙ্গলবার মধ্যরাতে তাঁর বড় জা রিগানের সঙ্গে পারিবারিক হিংসা, বিবাদ ও কলহের জেরে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হলে তিনি রিগানের গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।"
পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, “আমরা প্রথমেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত ও ঘরের অবস্থা দেখে বুঝতে পারি, এটি একটি রহস্যজনক হত্যা ছিল। তবে এ হত্যার ঘটনা ঘটার মতো বড় কোনো কারণ ছিল না। নিজেদের মধ্যে সামান্য কারণে পরস্পর হিংসা–বিবাদের জেরেই এ ঘটনা ঘটে। যেটি পরিবরের কেউই বিশ্বাস করতে পারেননি। আমরা বিষয়টি বুঝতে পেরে আসামিকে আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করে নিশ্চিত হই। পরে আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।”






