টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হ্রদের অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামীকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি স্পিলওয়ে গেট (জলকপাট) খুলে দেওয়া হতে পারে।
কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটায় কাপ্তাই হ্রদে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ১০৩ দশমিক ৯১ ফুট মিন সি লেভেল (এমএসএল)। উল্লেখ্য, এই বাঁধের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল। পানির স্তর বিপৎসীমার কাছাকাছি চলে আসায় উজান ও ভাটি এলাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং সামগ্রিক পানি ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে স্পিলওয়ে গেট খোলার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পানিবিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তাদের মতে, প্রাথমিকভাবে ১৬টি গেটে ৬ ইঞ্চি করে পানি ছেড়ে দেওয়া হবে, যার ফলে প্রতি সেকেন্ডে ৯ হাজার কিউসেক পানি কাপ্তাই হ্রদ থেকে কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশিত হবে।
গেট খোলার বিষয়ে গতকাল কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে একটি আগাম সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, "হ্রদের পানির উচ্চতা, উজান থেকে আসা পানির ঢল এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাসসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের তীব্রতার ওপর ভিত্তি করে স্পিলওয়ে খোলার সময় পরিবর্তন হতে পারে। যদি ঢলের পরিমাণ আরও বাড়ে, তবে স্পিলওয়ে গেট খোলার পরিমাণও পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে।"
বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কাপ্তাই বাঁধের ভাটি অঞ্চল বিশেষ করে রাঙামাটি ও চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা এবং নৌযান চালকদের সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
কাপ্তাই কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান বলেন, "বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট সচল রয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের কারণে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি হ্রদ থেকে নিষ্কাশিত হচ্ছে। এরপরও পানির চাপ সামাল দিতে অতিরিক্ত ৯ হাজার কিউসেক পানি ছাড়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।"






