ফেনী সরকারি কলেজে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মঞ্চের ব্যানার খুলে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ব্যানারে ছাত্রদল নেতা শহীদ মোহাম্মদ ওয়াসিমের ছবি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কলেজ ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা এই পদক্ষেপ নেন বলে জানিয়েছেন অনুষ্ঠান-সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় কলেজ মিলনায়তনে কলেজ প্রশাসনের উদ্যোগে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, সভা শুরুর প্রাক্কালে কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান নেতা-কর্মীদের নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন। মঞ্চে ব্যবহৃত ব্যানারে শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ মীর মুগ্ধ, ফেনী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী শহীদ সরোয়ার জাহান মাসুদ ও শহীদ ইশতিয়াক আহমেদ শ্রাবণের ছবি থাকলেও শহীদ মোহাম্মদ ওয়াসিমের ছবি ছিল না। এতে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, জাহিদ হাসানসহ কয়েকজন নেতা-কর্মী শিক্ষকদের উপস্থিতিতেই মঞ্চে উঠে ব্যানারটি খুলে ফেলেন। এই ঘটনায় অনুষ্ঠানস্থলে সাময়িক হট্টগোল সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ শহীদ ওয়াসিমের ছবি যুক্ত করে নতুন একটি ব্যানার টানলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী জানান, শহীদ ওয়াসিমের ছবি না থাকায় ছাত্রদল নেতারা প্রথমে প্রতিবাদ জানান এবং আলোচনা সভা চলাকালীন ব্যানারটি খুলে ফেলেন। এছাড়া ছাত্রদল নেতাদের বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও কিছুটা অসন্তোষ ছিল বলে তাঁরা দাবি করেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর নতুন ব্যানার টানানোর মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।
এই অভিযোগের বিষয়ে কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান বলেন, ‘জুলাই সবার। আমরা মনে করি, শহীদ ওয়াসিমের ছবি বাদ দেওয়া হয়েছে ইচ্ছাকৃতভাবে। এর প্রতিবাদ জানিয়েছি।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ এনামুল হক খোন্দকার। দিবস উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক কাজী মোহাম্মদ রেজাউল হকের সভাপতিত্বে সভাটি সঞ্চালনা করেন শিক্ষক পরিষদের কোষাধ্যক্ষ শিরিন আক্তার। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক মো. ফরিদ আলম ভূঞা।
ব্যানার খুলে নেওয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে অধ্যক্ষ মোহাম্মদ এনামুল হক খোন্দকার জানান, জুলাই আন্দোলনের আলোচিত শহীদ আবু সাঈদ, মীর মুগ্ধ, ফেনীর শহীদ মাসুদ ও শ্রাবণের ছবিসংবলিত ব্যানার দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করা হয়েছিল। তিনি আরও জানান, ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আগে শহীদ ওয়াসিমের ছবি ব্যবহারের বিষয়ে কোনো অনুরোধ জানানো হয়নি এবং আগের বছরগুলোর ব্যানারেও তাঁর ছবি ছিল না।
অধ্যক্ষ আরও বলেন, ‘হঠাৎ শহীদ ওয়াসিমের ছবি না থাকার বিষয়টি নিয়ে ছাত্রদলের নেতারা ব্যানারটি খুলে ফেলেন। পরে তাঁদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শহীদ ওয়াসিমের ছবি সংযুক্ত করে নতুন ব্যানার টানানো হয় এবং অনুষ্ঠান শেষ করা হয়। আগে থেকে বিষয়টি জানালে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।’
ছাত্রদলের নেতাদের বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে কোনো জটিলতা ছিল কি না, সেই প্রশ্নে অধ্যক্ষ জানান, ‘ছাত্রদলের পক্ষে তিন নেতা ও শিবিরের পক্ষে এক নেতা বক্তব্য দিয়েছেন।’