আষাঢ়ের বর্ষণে দেশজুড়ে স্বস্তির বৃষ্টি মিললেও এবার টানা পাঁচ দিন ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে দেশের ১০টি জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নোয়াখালীর হাতিয়ায় দেশের সর্বোচ্চ ১১৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা বর্ষণে তাপমাত্রার দাপট অনেকটাই কমে এসেছে।

আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক জানান, শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল ৯টার মধ্যে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট। এসব অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আগামী ৫ দিনও দেশজুড়ে বজ্রসহ বৃষ্টি ও ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান। তিনি জানান, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। পাশাপাশি এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। এ ছাড়া মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে সক্রিয় ও অন্যত্র মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থানে আছে।

এ অবস্থায় শুক্রবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে এই সময়ে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। তবে এই সময়ে সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আগামী শনিবার ও রোববার চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে বৃষ্টির প্রকোপ বেশি থাকবে। রংপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলেও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। তবে এ সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। পরবর্তীতে সোমবার ও মঙ্গলবার দেশের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। মঙ্গলবার থেকে সারা দেশে বৃষ্টির মাত্রা আবারও কিছুটা বাড়তে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সাময়িক হ্রাস পেতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, হাতিয়ার ১১৬ মিলিমিটারের পাশাপাশি কক্সবাজারের টেকনাফে ১১২, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ৮০, সন্দ্বীপে ৭৮ এবং কক্সবাজার সদরে ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে বর্ধিত ৫ দিনের শেষভাগে গিয়ে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।