খুলনায় সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে চালানো গুলিবর্ষণের ঘটনাকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর বড় ধরনের আঘাত হিসেবে অভিহিত করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এই ঘটনার দ্রুত, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
আজ বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান এই দাবি জানান। তিনি বলেন, "হামলাটি কোনো নির্দিষ্ট সাংবাদিক বা কোনো বিশেষ প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের সশস্ত্র হামলা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের ওপর আঘাত—এ বিষয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।"
হামলাকারী, পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতাদের কোনো প্রভাব বা কালক্ষেপণ ছাড়াই আইনের আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি আরও বলেন, "কোনো ধরনের প্রভাব বা কালক্ষেপণ ছাড়াই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হামলাকারী, পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।"
ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, কেবল মামলা দায়ের করলেই সমাধান হবে না। তিনি বলেন, "শুধু মামলা দায়ের করাই যথেষ্ট নয়। হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং সাংবাদিকদের পেশাগত কাজের সঙ্গে ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় অতীতের অনেক ঘটনার মতো এটিও বিচারহীনতার তালিকায় যুক্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।"
গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের বরাত দিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, হামলার শিকার সাংবাদিকেরা শুরুতে মামলা করতে অনাগ্রহী ছিলেন। এই বিষয়টিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে টিআইবি নির্বাহী পরিচালক বলেন, "প্রতিশোধমূলক হামলার আশঙ্কা, নিরাপত্তাহীনতা এবং সাংবাদিক সমাজে বিরাজমান ভয়ের সংস্কৃতির কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "যে পরিবেশে হামলার শিকার ব্যক্তিরাই ন্যায়বিচার চাইতে ভয় পান, সেখানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষিত থাকতে পারে না।" তাই সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিটি হামলার বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।