ময়মনসিংহের ভালুকায় দলিল লেখক আবু জাকারিয়া (মিন্টু) (৩৭) হত্যা মামলায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড এবং ১০ জনের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। এ ছাড়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজনকে ৩০ হাজার টাকা এবং যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।
আজ বুধবার দুপুরে ময়মনসিংহের বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফারহানা ফেরদৌস এ রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন ফরিদ খলিফা (৪৮) ও পলাতক মাসুদ মিয়া (৪১)। রায়ের সময় ফরিদ খলিফা আদালতে হাজির থাকলেও মাসুদ মিয়া পলাতক ছিলেন। মামলার এজাহারভুক্ত ১ নম্বর আসামি ছিলেন মাসুদ মিয়া, আর ৫ নম্বর আসামি ছিলেন ফরিদ খলিফা। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি দুজনকে ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।
আদালত আবদুল মতিন (৪৫) ও তাঁর বাবা আবদুস ছাত্তার ওরফে ছন্দেন আলী (৬৮), মোশারফ হোসেন (৫৮), মোফাজ্জল হোসেন (৫৮), তাঁর ভাই তোফাজ্জল হোসেন (৪৮), নজরুল মিয়া (৪৩), মোকলেছুর রহমান (৫৩), শাহজাহান আকন্দ (৪৮) ও তাঁর ভাই মো. আতিকুল (৩৯), এবং পলাতক সিদ্দিক মিয়াকে (৬৩) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেন। যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়; অনাদায়ে তাঁদের আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১৪ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে জমিসংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে ভালুকা উপজেলার উথুরা ইউনিয়নের নারাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা আবু জাকারিয়া (মিন্টু) খুন হন। তিনি ভালুকা সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক ছিলেন। ওই দিন নিজের পৈতৃক সম্পত্তি দেখভাল করতে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক আবু জাকারিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।
রায় প্রসঙ্গে সন্তোষ প্রকাশ করে বিশেষ দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আকরাম হোসেন বলেন, ‘আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছেন, সাক্ষ্যপ্রমাণে হত্যাকাণ্ড সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট, আশা করব দ্রুত যেন এ রায় কার্যকর হয়।’
রায় ঘোষণার পর আসামিদের স্বজনেরা দাবি করেন, তাঁরা ন্যায়বিচার পাননি। যাবজ্জীবন সাজা হওয়া আসামি আতিকুলের বড় ভাই সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ঘটনাটি ঘটে। এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট না। আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব।’






