মহাকাশের অসীম রহস্য উন্মোচনের নেশায় মানুষ এক সময় এক ভয়াবহ পরীক্ষা চালিয়েছিল। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের বাইরে মহাকাশের বুকে এক বিশাল পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছিল সেই সময়ে।

১৯৬২ সালের ৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র মহাকাশে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিস্ফোরণটি ঘটায়। পৃথিবী থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার উচ্চতায় ১ দশমিক ৪ মেগা টন ওজনের একটি থার্মোনিউক্লিয়ার বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। উল্লেখ্য, বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন ঠিক এই উচ্চতাতেই পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে।

এই বিস্ফোরণের ফলে আকাশে এক বিশাল উজ্জ্বল আলোর ঝলকানি তৈরি হয়, যা শত শত কিলোমিটার দূর থেকেও দৃশ্যমান ছিল। তবে এর প্রভাব ছিল মারাত্মক। পৃথিবীর চারপাশে একটি কৃত্রিম বিকিরণ বলয় তৈরি হওয়ায় কক্ষপথে থাকা বেশ কয়েকটি কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ক্ষতিকর বিকিরণ মহাকাশে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় স্থায়ী ছিল বলে জানা গেছে।

'স্টারফিশ প্রাইম' নামের এই পরীক্ষার ফলে মহাকাশে এক শক্তিশালী ইলেকট্রোম্যাগনেটিক পালস তৈরি হয়েছিল, যা বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক সিস্টেমের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এই শক্তিশালী তরঙ্গের প্রভাবে মূল বিস্ফোরণস্থল থেকে প্রায় ১ হাজার ৪৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের প্রায় ৩০০টি রাস্তার বাতি একসঙ্গে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।

এই ঘটনার ঠিক এক বছর পর, ১৯৬৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্য এক চুক্তিতে স্বাক্ষর করে, যার মাধ্যমে বায়ুমণ্ডল, মহাকাশ এবং পানির নিচে পারমাণবিক পরীক্ষা চালানো নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৬৭ সালে বিখ্যাত বহির্মহাকাশ চুক্তি সই হয়, যা বিভিন্ন দেশের জন্য মহাকাশ ব্যবহারের মৌলিক নিয়ম নির্ধারণ করে দেয়।

বহির্মহাকাশ চুক্তি অনুযায়ী, মহাকাশ সব দেশের জন্য উন্মুক্ত। কোনো দেশ চাঁদ, অন্য কোনো গ্রহ বা মহাজাগতিক বস্তুর মালিকানা দাবি করতে পারবে না। পাশাপাশি কক্ষপথে বা মহাকাশের অন্য কোনো স্থানে পারমাণবিক অস্ত্র রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।