তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে নেতৃত্বশূন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় গতি এসেছে। সংস্থাটির শীর্ষ পদগুলোতে দায়িত্ব পেতে আগ্রহী প্রায় ৪০ জন ব্যক্তি সার্চ বা বাছাই কমিটির কাছে তাঁদের জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন। জমা পড়া আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করে যোগ্য প্রার্থীদের নাম রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করা হবে, যা থেকে একজন চেয়ারম্যান এবং দুজন কমিশনার নিয়োগ পাবেন।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, আবেদনকারীদের মধ্যে বিচার বিভাগ, প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে চেয়ারম্যান পদের জন্য বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নাম বর্তমানে আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে সাবেক একজন বিচারক, সাবেক একজন যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ, প্রশাসন ক্যাডারের একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং বর্তমানে একটি রাষ্ট্রীয় সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে কর্মরত একজনের নাম আলোচিত হচ্ছে।

গত ৩ মার্চ মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের নেতৃত্বাধীন কমিশন পদত্যাগ করার পর থেকে দুদকের শীর্ষ তিনটি পদ শূন্য রয়েছে। এর ফলে সংস্থাটির নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং নতুন অভিযোগের অনুসন্ধান ও মামলার অনুমোদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো আটকে আছে।

এই অচলাবস্থা দূর করতে গত ২২ জুন আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হককে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যের একটি সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি রাজিক আল জলিল, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এস এম রেজভী, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান মোবাশ্বের মোনেম এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

একটি সূত্র জানিয়েছে, সার্চ কমিটি এখন পর্যন্ত একটি আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেছে। গত ১৩ জুলাই জীবনবৃত্তান্ত জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হয়েছে। এখন প্রার্থীদের সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি এবং পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে কমিটির আগামী বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

দুদক সূত্র অনুযায়ী, কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে জমা পড়া জীবনবৃত্তান্তগুলো খোলা হবে। এরপর প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত অভিজ্ঞতা ও কর্মজীবনের রেকর্ড বিবেচনা করে একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রস্তুত করা হবে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি শূন্য পদের বিপরীতে দুজন করে প্রার্থীর নাম রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করতে হবে সার্চ কমিটিকে।

দুদকের সাবেক মহাপরিচালক মঈদুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "আইন অনুযায়ী সার্চ কমিটি আগ্রহী প্রার্থীদের মধ্য থেকে প্রতিটি শূন্য পদের জন্য দুজন করে প্রার্থীর নাম রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করবে। পরবর্তী সময় রাষ্ট্রপতি সেখান থেকে চূড়ান্ত নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন।"

দুদক আইন, ২০০৪-এর ৭ ধারা অনুযায়ী গঠিত এই কমিটি চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের সুপারিশ করবে। আবেদনপত্রের সাথে প্রার্থীর নাম, ঠিকানা, জন্মতারিখ, জাতীয়তা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা, মুঠোফোন নম্বর, ই-মেইল, ছবি, এনআইডি এবং অভিজ্ঞতার সনদের অনুলিপি চাওয়া হয়েছিল।

আইন অনুযায়ী, চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদের জন্য আবেদনকারীকে দুদক আইনের ৮(১) ধারায় উল্লিখিত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন হতে হবে এবং ৮(২) ধারায় অযোগ্য ঘোষিত হওয়া চলবে না। আইন, শিক্ষা, প্রশাসন, বিচার বা শৃঙ্খলা বাহিনীতে অন্তত ২০ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে নিয়োগের যোগ্য হওয়া যায়, তবে সরকারি চাকরিতে কর্মরত ব্যক্তিরা এই পদে নিয়োগ পাবেন না। এছাড়া বাংলাদেশের নাগরিক নন, ঋণখেলাপি, দেউলিয়া, নৈতিক স্খলন বা দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত, শারীরিকভাবে অক্ষম কিংবা বিভাগীয় মামলায় গুরুদণ্ডে দণ্ডিত ব্যক্তিরা এই পদের জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।