চলতি এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের দুটি প্রশ্নে ত্রুটি পাওয়া গেছে। এই ত্রুটির কারণে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই তথ্য জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "প্রশ্নপত্রের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল ছিল। বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পরপরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ওই দুটি প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।"
প্রশ্নপত্র প্রণয়নের প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে তিনি জানান, বর্তমান সরকার মাত্র চার মাস আগে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, অথচ পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মডারেশনের কাজ প্রায় দুই বছর আগে শুরু হয়। ফলে এবারের প্রশ্নপত্র পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিটির মাধ্যমেই প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে ভুল শনাক্ত হওয়ার সাথে সাথেই সরকার তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এর আগে সম্পূরক প্রশ্নে রুমিন ফারহানা জানান, টানা বৃষ্টিতে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন বড় শহরে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা এক বা দুই দিন পেছানোর দাবি জানালেও তা গ্রহণ করা হয়নি। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানান, সারা দেশে ৬৪টি জেলায় প্রায় ২ হাজার ৭০০টি কেন্দ্রে একযোগে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভারী বৃষ্টি ও বন্যার কারণে রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরীক্ষাগুলো পর্যায়ক্রমে স্থগিত করা হয়েছিল।
পরীক্ষা যথাসময়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, "পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগের দিন বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে। এ সময় ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি), ৮ বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয়। সংশ্লিষ্ট সবাই তখন জানিয়েছিলেন যে আবহাওয়ার উন্নতি হবে এবং পরীক্ষা গ্রহণে কোনো সমস্যা হবে না। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।"
জলাবদ্ধতার বিষয়ে তিনি জানান, কেবল কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে সাময়িক সমস্যা হয়েছিল। এহছানুল হক মিলন বলেন, "পরদিন সকালে দেখা যায় কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের মাঠে পানি জমে গেছে। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মেয়র, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে পরীক্ষার্থীদের নৌকায় কলেজের পাঁচতলা ভবনে নিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়।"
তিনি আরও জানান, ওই কেন্দ্রে এক পরীক্ষার্থীর পোশাক ভিজে যাওয়ায় তাঁকে বাড়ি থেকে পোশাক এনে পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হয়। পরীক্ষা এক ঘণ্টা বিলম্বে শুরু হওয়ায় পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ সময় নিশ্চিত করতে পরীক্ষার সময়ও এক ঘণ্টা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ ছাড়া দেশের অন্য কোথাও দুর্যোগজনিত সমস্যা হয়নি বলে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, "কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ সম্পর্কে সরকার অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাদের স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই সার্বক্ষণিক মনিটরিং ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।"






