প্রতিকূল আবহাওয়া, ভারী বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যেই গতকাল সোমবার (১৩ জুলাই ২০২৬) অনুষ্ঠিত হয়েছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। তবে পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের (২ নম্বর সেট, যমুনা) ৬ ও ৭ নম্বর সৃজনশীল প্রশ্নে ত্রুটি থাকায় পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও মানসিক চাপের সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতিতে পরীক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে আন্তশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন।

বোর্ড জানিয়েছে, এইচএসসি পদার্থবিজ্ঞানের সৃজনশীল অংশের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্ন সম্পর্কে বিভিন্ন মাধ্যমে উত্থাপিত বিষয়ে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড অবগত। গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, "উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার সৃজনশীল অংশের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্ন সম্পর্কে বিভিন্ন মাধ্যমে উত্থাপিত বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঢাকা অবগত রয়েছে। বোর্ড বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। পর্যালোচনায় যদি সংশ্লিষ্ট কোনো প্রশ্নে ত্রুটি বা অসংগতি প্রমাণিত হয়, তবে প্রচলিত পরীক্ষা মূল্যায়ন নীতিমালা অনুযায়ী পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ সম্পূর্ণভাবে সংরক্ষণ করা হবে এবং তাঁরা যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর প্রদান করা হবে। এ বিষয়ে পরীক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে কোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যে উদ্বিগ্ন না হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।"

প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে, বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যেও পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। সোমবার শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যানদের সংগঠন আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ১৩ জুলাই সকালে অপ্রত্যাশিত খারাপ আবহাওয়ার কারণে কিছু কেন্দ্রে, বিশেষ করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে ভোগান্তি হয়েছে। তবে স্থানীয় প্রশাসন, কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও অভিভাবকদের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীরা যথাসময়ে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে পেরেছেন।

আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি আরও উল্লেখ করেছে যে, ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ শিক্ষার্থীর প্রস্তুতি বিবেচনা করে পরীক্ষা বারবার স্থগিত করা হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন, ফলাফল প্রকাশ, বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি কার্যক্রমসহ সামগ্রিক শিক্ষাপঞ্জি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পাশাপাশি অভিন্ন প্রশ্নপত্র ব্যবস্থার কারণে একটি বোর্ডের সমস্যার জন্য সব বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত রাখা বাস্তবসম্মত নয়।