দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান বন্যা, অতিবর্ষণ ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা দেশব্যাপী স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা শহরের একজন মেডিক্যাল শিক্ষার্থী। হাসান মাহমুদ শুভ নামের ওই শিক্ষার্থী শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি এই অনুরোধ জানিয়েছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, প্রকৃতির দুর্যোগের সামনে মানুষ অসহায় এবং এই সময়ে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবমুখী ও মানবিক হওয়া প্রয়োজন। এইচএসসি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ, যার ওপর তাদের উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ পেশা নির্ভর করে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক শিক্ষার্থীকে কোমরসমান পানি পেরিয়ে কেন্দ্রে যেতে হচ্ছে, কোথাও নৌকাই একমাত্র ভরসা, আবার কোথাও বিদ্যুৎ না থাকায় প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে শিক্ষার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না বলে তিনি দাবি করেন।

চিঠিতে বলা হয়, সরকার চট্টগ্রাম বিভাগের পরীক্ষা স্থগিত করেছে, যার অর্থ সেখানে পরিস্থিতি অনুকূল নয়। কিন্তু দেশের অন্যান্য অনেক জেলাতেও বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে যোগাযোগব্যবস্থা বিঘ্নিত হচ্ছে। এমতাবস্থায় কোন মানদণ্ডের ভিত্তিতে একটি অঞ্চলের পরীক্ষা স্থগিত করা হলো আর অন্য অঞ্চলে তা চালু রাখা হলো, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ও তথ্যভিত্তিক ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত বলে মনে করেন লেখক।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচিত দুর্যোগকালীন সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা জনগণের সামনে পরিষ্কার করা। যদি পরিস্থিতির অবনতি ঘটে, তবে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার ক্ষেত্রে দ্রুততা ও নমনীয়তা প্রয়োজন। পরীক্ষা স্থগিত করলে শিক্ষাবর্ষে প্রভাব পড়তে পারে, তবে দুর্যোগের কারণে কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে সেই ক্ষতি পূরণ করা কঠিন। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হওয়া উচিত প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য নিরাপদ ও ন্যায়সংগত পরিবেশ নিশ্চিত করা।

হাসান মাহমুদ শুভ-র মতে, এই মুহূর্তে নিয়মের কঠোর প্রয়োগের চেয়ে পরিস্থিতির বাস্তব মূল্যায়ন বেশি জরুরি। স্থানীয় প্রশাসন, আবহাওয়া অধিদপ্তর ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিদিন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

সামগ্রিক পরিস্থিতি ও শিক্ষার্থীদের জীবন ও নিরাপত্তা বিবেচনায় নিয়ে তিনি বলেন, "চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা দেশব্যাপী অবিলম্বে স্থগিত করার প্রয়োজন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর নতুন সময়সূচি ঘোষণা করাই হবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে মানবিক ও যৌক্তিক সিদ্ধান্ত।"

সবশেষে তিনি বলেন, "মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, বর্তমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে অনুরোধ রইল বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করার জন্য।"