ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের টেকসই প্রবৃদ্ধি ও সেবার মান নিশ্চিত করতে ‘সার্ভিস কোয়ালিটি ইনডেক্স’ (এসকিউআই) বিষয়ক একটি ওয়েবিনারের আয়োজন করেছে সেন্টার ফর সার্ভিস কোয়ালিটি এনহ্যান্সমেন্ট (সিএসকিউই)। সম্প্রতি আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে করপোরেট খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, ব্যাংকিং পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ, উদ্যোক্তা এবং সেবা মান বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন।

ওয়েবিনারে বক্তারা এসকিউআই-কে প্রতিষ্ঠানের সেবার মান পরিমাপ, পর্যবেক্ষণ এবং ধারাবাহিক উন্নয়নের একটি কার্যকর ও কাঠামোবদ্ধ পদ্ধতি হিসেবে অভিহিত করেন। সিএসকিউই দীর্ঘদিন ধরে এই সূচকটি নিয়ে গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, তথ্যভিত্তিক সেবা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গ্রাহকের অভিজ্ঞতা উন্নয়ন, কার্যক্রমের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা অর্জনে এসকিউআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সিএসকিউইয়ের কনসালট্যান্ট কাজী আসিফ উজ জামান ও মো. ইশরাক শাফাত। এরপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সার্ভিস কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. তারেক আজিজ। তিনি বলেন, “সেবার মান পরিমাপ ও উন্নয়নের জন্য সার্ভিস কোয়ালিটি ইনডেক্সের মতো একটি নির্ভরযোগ্য সূচক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করতে পারে।”

অনুষ্ঠানে ‘দ্য ফেসেস অব সার্ভিস কোয়ালিটি: প্রসপেক্টস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস ইন বাংলাদেশ অ্যান্ড বিয়ন্ড’ শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন অধ্যাপক ড. মো. তারেক আজিজ, সিএসকিউইয়ের উপদেষ্টা ও কানাডার স্কশিয়াব্যাংকের অ্যাসোসিয়েট টিম লিড আলভি চৌধুরী এবং এনআরবি ব্যাংক পিএলসির সার্ভিস কোয়ালিটি ডিভিশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান তাসনিম মৌরিন। আলোচকরা বাংলাদেশে সেবার মান উন্নয়নের সম্ভাবনা, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করেন।

উল্লেখ্য, সিএসকিউই ২০১৮ সাল থেকে এসকিউআই নিয়ে কাজ করছে। এটি প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব উদ্ভাবিত একটি সেবা মূল্যায়নকাঠামো। এর ওয়েবভিত্তিক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গ্রাহকের অভিজ্ঞতা, সেবা প্রদান প্রক্রিয়া, কার্যক্রমের দক্ষতা এবং গ্রাহক সন্তুষ্টির মতো বিষয়গুলো তথ্য ও সূচকের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়। এই পদ্ধতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সেবার দুর্বলতাগুলো সহজেই চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে সক্ষম হয়।