স্মৃতির প্রদীপ জ্বলে আজি এই ঐতিহ্যের অলিন্দে,
ইতিহাস কথা কয়, আভিজাত্য অমলিন গৌরবের দিগন্তে।
দেড় শ বছরের পুরোনো দেয়াল আজও কান পেতে রয়,
সময়ের দিনলিপি বুকে নিয়ে প্রাসাদ অতন্দ্র জেগে রয়।
বিবর্তনে আজি সে রেস্তোরাঁ, রূপ অসাধারণ,
সাথে আছে ইতিহাসের এক চমৎকার সংমিশ্রণ।
অতিথি পদার্পণ শুধুই রসনাবিলাসে নয়,
ঐতিহ্যের অলিন্দে ঘুরেফিরে হয় সুখ সঞ্চয়।
শাহি খানার খুশবু এল দেউরিতে পা রাখতে,
উষ্ণ আমন্ত্রণ অনুভব হলো শীতল জাফরানি শরবতে।
.প্রাসাদটি আজও ধরে রেখেছে পুরোনো সভ্যতা।
মেহেমান নওয়াজিতে তাই ছিল না কার্পণ্যতা।
ঝাড়বাতিগুলো ঝলমলে আলো দিয়ে চলেছে,
রাজকীয় দোলনা সময়ের সাক্ষী হয়ে আছে।
পুরোনো আসবা, রূপোর থালা–বাসন,
দেখে যেন মনে হয় সে এক অমূল্য রতন।
প্রমদাদের পদচারণে উল্লাসের ঢেউ খেলে যায়,
চুরি-কাঁকনের কিঙ্কিণী আর কাচ ভাঙা হাসিতে মহল প্রাণ ফিরে পায়।
ছোটাছুটি করে যখন আহ্লাদে আনন্দে মাতে,
শাহজাদিদের প্রতিবিম্ব ফুঁটে ওঠে খিড়কির রঙিন আয়নাতে।
পুরোনো ইট-পাথরের মাঝে আজও শোনা যায়,
পূর্বপুরুষের পদধ্বনির অবাধ বিচরন এই আঙিনায়।
দেয়ালজুড়ে রাখা আছে বংশপরম্পরায় ঐতিহাসিক ছবি,
আছে সেই পালঙ্ক একদা যেথায় সুখনিদ্রায় বিভোর জাতীয় কবি।
.নদীর স্রোতের মতো সময় বয়ে যায় আপন মনে,
রেখে যায় কিছু তার প্রতীক নিয়ে চলে কিছু সঙ্গোপনে।
শিকড় আছে জাগ্রত তাই তো মহল আজও প্রাণবন্ত,
ঐতিহ্যের অলিন্দজুড়ে স্মৃতিরা থাকুক চির জীবন্ত।
*বেচারাম দেউরির ‘ইমরান হেরিটেজ হোমে’ এক দিনের অতিথি অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা এই কবিতা।
.নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]






