বলিউডের কিংবদন্তি গায়ক ও অভিনেতা কিশোর কুমারের ব্যক্তিগত জীবন বরাবরই কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু। চারবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এই শিল্পীর প্রেম ও দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে প্রচলিত রয়েছে নানা গল্প। সম্প্রতি তাঁর ছেলে গায়ক অমিত কুমার কিশোর কুমারের প্রথম বিয়ের এক অজানা অধ্যায় সামনে এনেছেন।
অমিত কুমারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরিবারকে না জানিয়েই অভিনেত্রী ও গায়িকা রুমা গুহঠাকুরতাকে বিয়ে করেছিলেন কিশোর কুমার। এই গোপন বিয়ের কথা জানাজানি হলে বড় ভাই অশোক কুমারের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে, তা নিয়ে ভীষণভাবে উদ্বিগ্ন ছিলেন অভিনেতা দেব আনন্দ। তিনি কিশোর কুমারকে এই বিষয়ে আগেই সতর্ক করেছিলেন।
ফিল্মফেয়ারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অমিত কুমার জানান, তাঁর বাবা ছিলেন অত্যন্ত রোমান্টিক স্বভাবের মানুষ। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকেই রুমা গুহঠাকুরতার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে তাঁর। দেব আনন্দের জন্য নিয়মিত গান গাওয়ার সময় থেকেই রুমার সঙ্গে কিশোর কুমারের পরিচয় হয়। সে সময় রুমা বোম্বে টকিজে নির্মাতা নীতীন বোসের সঙ্গে কাজ করতেন এবং অভিনয়ে বেশ পরিচিত ছিলেন। কাজের সূত্রে শুরু হওয়া সেই পরিচয় পরবর্তীতে প্রেমে রূপ নেয়।
তবে এই সম্পর্ক পরিবারের সমর্থন পায়নি। অমিত কুমারের ভাষ্যমতে, রুমা ছিলেন ব্রাহ্ম সমাজের অনুসারী এবং কিশোর কুমারের পরিবার ছিল ব্রাহ্মণ। এই সামাজিক পার্থক্যের কারণেই বড় ভাই অশোক কুমার বিয়ের বিরোধিতা করেন। তিনি কিশোরকে বলেছিলেন, ‘তুমি বেশি পড়াশোনা করোনি। ব্রাহ্ম সমাজের মানুষ ইংরেজি জানে। তুমি কীভাবে তাকে বিয়ে করবে?’
পরিবারের এই যুক্তি কিশোর কুমারের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি, তাই গোপনেই বিয়ে করেন তাঁরা। অমিত কুমারের দাবি, এই গোপন বিয়ের খবর জানাজানি হলে কী হতে পারে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন দেব আনন্দও। তিনি কিশোরকে সতর্ক করে বলেছিলেন, অশোক কুমার বিষয়টি জানতে পারলে বড় বিপদ হবে।
শেষ পর্যন্ত সেই আশঙ্কা সত্যি হয়। একসময় অশোক কুমারের হাতে বিয়ের নিবন্ধনের কাগজ পৌঁছে যায়। তিনি কিশোরকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘তুমি কি বিয়ে করেছ?’ প্রথমে কিশোর কুমার কিছুই জানেন না—এমন ভান করলেও, অশোক কুমার নিবন্ধনের কাগজে স্বাক্ষর দেখানোর পর তিনি মজা করে শুধু বলেন, ‘হয়তো!’
১৯৫৮ সালে কিশোর কুমার ও রুমা গুহঠাকুরতার বিচ্ছেদ ঘটে। এর দুই বছর পর রুমা অরূপ গুহঠাকুরতাকে বিয়ে করেন। অন্যদিকে, ১৯৬০ সালে হৃদ্রোগে আক্রান্ত জেনেও অভিনেত্রী মধুবালাকে বিয়ে করেন কিশোর কুমার এবং তাঁর মৃত্যুর আগপর্যন্ত পাশে থাকেন। পরবর্তীতে তিনি যোগিতা বালিকে বিয়ে করেন। সেই সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর ১৯৮০ সালে অভিনেত্রী লীনা চন্দ্রাভারকরকে বিয়ে করেন তিনি। ১৯৮৭ সালে মৃত্যুর আগপর্যন্ত লীনাই ছিলেন তাঁর জীবনসঙ্গী।