বাগেরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনের করিডরের ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে পাঁচজন বিচারপ্রার্থী আহত হয়েছেন। আজ সোমবার দুপুরে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনায় আদালত এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আইনজীবীদের সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে আদালতের নিচতলার (হাকিমি আদালত) কচুয়া এজলাসের সামনের করিডরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। সে সময় এজলাসে বিচারকাজ চলমান থাকায় করিডোরে অনেক বিচারপ্রার্থী অপেক্ষা করছিলেন। দুপুর ১২টার কিছু পর হঠাৎ ছাদের একটি অংশের পলেস্তারা খসে পড়লে বেশ কয়েকজন আহত হন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনকে আদালতের সরকারি গাড়িতে করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতরা হলেন— সুমন দাস (৪৫), হৃদয় হাওলাদার (২৬), হাবিবুল্লাহ শেখ (২৮), মো. ফিরোজ শেখ (৬৫) ও মোতালেব হোসেন (৪৮)।

আহত পাঁচজনকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা শেখ আদনান হোসেন বলেন, “ওই পাঁচজনের সবাই কমবেশি আহত ছিলেন, তবে তা খুব গুরুতর নয়। ভবনের পলেস্তার খসে পড়ে কারও মাথায়, কারও ঘাড়ে এবং হাতে-পায়ে আঘাত লেগেছে।”

দুপুরে বাগেরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারকেরা হাসপাতালে গিয়ে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।

বাগেরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর প্রধান কৌঁসুলি (পিপি) এম এম মাহাবুব মোর্শেদ লালন জানান, “বাগেরহাট জজ আদালতের নিচতলায় যেখানে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা মামলা পরিচালনা করেন, সেখানে কচুয়া কোর্টের সামনের এ ঘটনা ঘটেছে। জেলা ও দায়রা জজ আদালতের তিনতলা ভবনটি বেশ পুরোনো। এই ভবনের অনেকস্থানে ফাটল ধরেছে। দ্রুত সংস্কার করা দরকার।”

আদালতের এক আইনজীবীর সহকারী অশোক মণ্ডল বলেন, “আদালতের ওই ভবনে চলাফেরা এখন সবার জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ। যে স্থান থেকে পলেস্তারা খসে পড়েছে এর পাশেও ছাদের বড় স্থানজুড়ে ফাটল রয়েছে। এর ওপর তলায়ও বিচার কাজ হয়। প্রতিদিন কয়েক হাজার বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী ও আদালত–সংশ্লিষ্ট লোকজন ওই করিডর ব্যবহার করেন। এর আগে ভবনের পিলারগুলোতে বড় ফাটল দেখা দিয়েছিল, কয়েক বছর আগেই তা সংস্কার করা হয়।”