পটুয়াখালীর কুয়াকাটাসংলগ্ন গভীর বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ ‘লাইন্ড সার্জন ফিশ’। হলুদ, নীল ও কালো রঙের সমান্তরাল ডোরাকাটা এই আকর্ষণীয় মাছটি স্থানীয়ভাবে ‘সুন্দরী মাছ’ হিসেবেও পরিচিত।

আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে মাছটিকে আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ‘সিফাত ফিশ’ নামক আড়তে আনা হয়। জেলেদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গতকাল শনিবার দিবাগত রাত ১২টার সময় গভীর সমুদ্রে একটি ফিশিং ট্রলারের জালে প্রায় আধা কেজি ওজনের এই রঙিন মাছটি ধরা পড়ে।

ওই ট্রলারের মাঝি মো. সেলিম মিয়া জানান, ‘গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় অন্য মাছের সঙ্গে এটি জালে আটকা পড়ে। এর আগে আমি কখনো এমন মাছ দেখিনি। দেখতে সুন্দর হওয়ায় মাছটি অন্য মাছের থেকে আলাদা করে তীরে নিয়ে এসেছি।’

মৎস্য ব্যবসায়ী এবং সিফাত ফিশের স্বত্বাধিকারী মো. মিজানুর রহমান তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে জানান, সাধারণত এই উপকূলীয় এলাকায় এ ধরনের মাছ পাওয়া যায় না এবং বাজারেও এর কোনো বাণিজ্যিক চাহিদা নেই। তবে মাছটির অপূর্ব সৌন্দর্যের কারণে এটি সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে।

মাছটির ছবি দেখে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেন ঢাকার শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের সহকারী অধ্যাপক ও গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী। তিনি জানান, মাছটি সার্জন ফিশ পরিবারের অ্যাকানথুরিডি (Acanthuridae) অন্তর্ভুক্ত লাইন্ড সার্জন ফিশ, যার বৈজ্ঞানিক নাম অ্যাকানথুরাস লিনিয়েটাস। এর শরীরের উপরিভাগে কালো-কিনারাযুক্ত নীল ও হলুদ রঙের সমান্তরাল ডোরা, নিচের অংশ হালকা বেগুনি-সাদা এবং লেজ অর্ধচন্দ্রাকার। এসব বৈশিষ্ট্য দেখেই প্রজাতিটি শনাক্ত করা যায়। লেজের গোড়ার দুই পাশে ছুরির মতো ধারালো ও বিষাক্ত একটি করে কাঁটা থাকে; এ কারণেই এর নাম ‘সার্জন’ (শল্যচিকিৎসক) ফিশ। মাছটি সর্বোচ্চ প্রায় ৩৮ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বড় হয়। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) লাল তালিকায় এই প্রজাতিটি বর্তমানে ‘ন্যূনতম উদ্বেগজনক’ শ্রেণিভুক্ত।

কলাপাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা মুক্তকণ্ঠকে জানান, এই মাছের লেজের গোড়ার কাঁটাটি বেশ বিপজ্জনক। আত্মরক্ষার সময় এটি দিয়ে আঘাত করলে মানুষের শরীরে তীব্র ও যন্ত্রণাদায়ক ব্যথার সৃষ্টি হতে পারে। বাংলাদেশের সেন্ট মার্টিন ও সুন্দরবন উপকূলসহ বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন এলাকায় মাঝেমধ্যে এদের দেখা মেলে।