নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরে রেলওয়ের ৩৩টি শতবর্ষী গাছ কাটার জন্য নির্ধারিত নিলাম কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্তের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ না করে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, "অনিবার্য কারণবশত" এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের সৈয়দপুরের সিনিয়র সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী (ইনচার্জ) মো. তহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ৫ জুলাই প্রকাশিত নিলাম বিজ্ঞপ্তির আওতায় ১২ ও ১৪ জুলাই গাছ বিক্রির যে নিলাম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, তা স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তীতে নতুন বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিলামের তারিখ জানানো হবে বলে উল্লেখ করা হয়।
স্থগিতকরণের এই বিজ্ঞপ্তির অনুলিপি সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে দপ্তর, সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সৈয়দপুর পৌরসভা, স্টেশনমাস্টার এবং সৈয়দপুর প্রেসক্লাবসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ১৮৭০ সালে তৎকালীন আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ের বৃহত্তম কারখানাটি সৈয়দপুরে প্রতিষ্ঠিত হয়। ব্রিটিশ ইংরেজ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হয়েছিল এই শহর। সেই সময়েই শহরের সড়ক, ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং কুপিবাতির মাধ্যমে স্ট্রিটলাইটের ব্যবস্থা করা হয় এবং প্রচুর বৃক্ষরোপণ করা হয়েছিল।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের মতে, ওইসব গাছের অধিকাংশ বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ। এরই ধারাবাহিকতায় বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে ৩৩টি গাছ কাটার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে বিষয়টি নিয়ে গত শনিবার 'মুক্তকণ্ঠ' অনলাইনে এবং রোববার ছাপা সংস্করণে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অনেক স্থানীয় বাসিন্দা গাছগুলো কাটার পরিবর্তে তা সংরক্ষণের সুযোগ খতিয়ে দেখার দাবি জানান।






