আবাসিক হলে গাঁজা সেবন এবং নিজের কাছে মাদক রাখার অভিযোগে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) আট শিক্ষার্থীকে দুই বছরের জন্য সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের আবাসিক হল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

আজ রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির এক জরুরি সভার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক ও কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক মো. সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৯ জুলাই রাত আনুমানিক ১১টা ৫০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আবু সাঈদ হলের একটি কক্ষে সহকারী প্রভোস্টরা অভিযান চালান। ওই সময় আট শিক্ষার্থীকে গাঁজা সেবনরত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরবর্তীতে কক্ষটি তল্লাশি করে গাঁজা ও সেবনের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের মধ্যে যন্ত্রকৌশল বিভাগের দুজন, পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের চারজন, মেকাট্রনিকস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একজন এবং ম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড মেটালার্জিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একজন রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চারজন শহীদ আবু সাঈদ হলের, দুজন মুক্তিযোদ্ধা হলের, একজন ড. কুদরাত-ই-খুদা হলের ও একজন কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।

এই ঘটনায় আট শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৬ জুলাই বেলা ১১টার মধ্যে তাঁদের নিজ হাতে লেখা জবাব নিয়ে ছাত্রকল্যাণ দপ্তরে সশরীর উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। এছাড়া কোনো শিক্ষার্থী চাইলে ২৭ জুলাই বেলা ১১টায় স্টুডেন্ট ডিসিপ্লিন কমিটির সভায় উপস্থিত হয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবেন।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাওয়া হলে ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক মো. সাইফুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।"

তিনি আরও বলেন, "মাদকের বিষয়ে চুয়েট প্রশাসন সব সময়ই কঠোর অবস্থানে থাকবে।"