রাজশাহীর তানোরে ছয় বছর আগের একটি ধর্ষণ মামলায় স্থানীয় গির্জার ফাদার প্রদীপ গ্রেগরি বেকসুর খালাস পেয়েছেন। আজ রোববার বিকেলে রাজশাহীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ ও শিশু আদালত-১ এর বিচারক শরমিন আকতার এই রায় ঘোষণা করেন।
আদালতে রায় ঘোষণার সময় আসামি প্রদীপ গ্রেগরি উপস্থিত ছিলেন। তবে এই রায়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী, যিনি ভুক্তভোগী কিশোরীর বড় ভাই। তিনি জানান, দীর্ঘ ছয় বছর ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় থেকে তাদের পরিবার মানসিক ও সামাজিকভাবে চরম সংকটের মধ্য দিয়ে গেছে। এই রায়ের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানান তিনি।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মুন্না সাহা মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "আদালত হয়তো শুধু মেডিক্যাল রিপোর্টের ওপরে ভিত্তি করে রায় দিয়েছেন। মেডিক্যাল রিপোর্ট সাপোর্ট না করলেও ধর্ষণের ঘটনায় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে নজির রয়েছে। মেয়েটাকে অপহরণ করে তিন দিন আটকে রাখা হয়েছিল। সে আদালতে আসামির বিরুদ্ধে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খু বর্ণনা দিয়েছিল। তারপরে মেয়েটিকে তুলে নিয়ে এসে আবার জবানবন্দি সাজিয়ে নেওয়া হয়েছে। এটা দেশের একটা চাঞ্চল্যকর ঘটনা। তারা ন্যায় বিচারের স্বার্থে উচ্চ আদালতে যাবেন।"
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ঘটনাটি ২০২০ সালের। ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে তানোর উপজেলার মুণ্ডুমালা মাহালীপাড়া এলাকার সাধুজন মেরী গির্জার কাছে ঘাস কাটতে গিয়েছিল ওই কিশোরী। দীর্ঘ সময় বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তার খোঁজ শুরু করেন। আত্মীয়স্বজনের বাড়ি ও সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খুঁজেও তার সন্ধান মেলেনি। অবশেষে ২৮ সেপ্টেম্বর দুপুরের পর জানা যায়, কিশোরীটি গির্জার তৎকালীন ফাদার প্রদীপ গ্রেগরির কক্ষে আটকে আছে।
খবরটি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা গির্জার সামনে জড়ো হয়ে পুলিশকে অবহিত করেন। পুলিশ ২৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় গির্জা থেকে কিশোরীটিকে উদ্ধার করে তানোর থানায় নিয়ে যায়। পরদিন ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে রাজশাহী নগরের ওমরপুর আমচত্বর এলাকা থেকে প্রদীপ গ্রেগরিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী আবুল কাসেম দাবি করেন, মামলাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল এবং একজন ধর্মযাজককে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগের সমর্থনে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও গ্রহণযোগ্য নথিপত্র উপস্থাপন করতে না পারায় আদালত আসামিকে খালাস দিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।






