দক্ষিণ ভারতীয় সংগীতজগতের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী এস জানকি মারা গেছেন। দক্ষিণ ভারতের ‘নাইটিঙ্গেল’ নামে পরিচিত এই শিল্পী গতকাল শনিবার কর্ণাটকের মহীশূরে ৮৮ বছর বয়সে মারা যান। তাঁর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রজনীকান্ত, কমল হাসান, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়সহ ভারতের চলচ্চিত্র ও সংগীতজগতের তারকারা।
.হাসপাতালের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বয়সজনিত নানা শারীরিক জটিলতা নিয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন জানকি। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন। চিকিৎসকেরা সিপিআরসহ প্রয়োজনীয় সব চেষ্টা করলেও তাঁকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
.অর্ণবের গান নিয়ে সমালোচনা, যা বললেন সুনিধি.জানকির নাতনি অপ্সরা বৈদ্যুলা ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, ‘পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতেই তিনি শান্তিতে বিদায় নিয়েছেন। আমাদের হৃদয় ভারাক্রান্ত, তবে তাঁর অসাধারণ জীবন ও সংগীতের মাধ্যমে কোটি মানুষের জীবনে যে আনন্দ তিনি ছড়িয়ে দিয়েছেন, সে জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। বিশ্বের কাছে তিনি ছিলেন এক কিংবদন্তি কণ্ঠ, আর আমাদের কাছে ছিলেন স্নেহময়ী দাদি।’
.১৯৫৭ সালে প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে যাত্রা শুরু করেন জানকি। ছয় দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে তিনি ২০টির বেশি ভারতীয় ভাষায় প্রায় ৪৮ হাজার গান রেকর্ড করেন। ক্যারিয়ারে তিনি চারটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং বিভিন্ন ভাষায় ৩৩টি রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।
২০১৩ সালে ভারত সরকারের দেওয়া পদ্মভূষণ সম্মান প্রত্যাখ্যান করেছিলেন জানকি। তাঁর ভাষ্য ছিল, দীর্ঘ সংগীতজীবনের তুলনায় এই স্বীকৃতি অনেক দেরিতে এসেছে। তিনি মনে করতেন, তাঁর অবদানের জন্য দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ভারতরত্ন প্রাপ্য।
.ঢাকায় জন্ম, বলিউড মাতানো ‘আজকাল তেরে মেরে প্যায়ার কে চর্চে’ গায়িকার মৃত্যু.সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য কর্ণাটক রাজ্যোৎসব পুরস্কার এবং মহীশূর বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ডক্টরেটও পেয়েছিলেন জানকি।





