জন্মদিনে চিত্রনায়িকা স্ত্রী দিলারা হানিফ পূর্ণিমাকে উদ্দেশ করে আবেগঘন শুভেচ্ছাবার্তা দিয়েছেন স্বামী আশফাকুর রহমান। বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘তোমার ভালোবাসা, যত্ন আর অফুরন্ত সমর্থনে আমার জীবন আরও আলোকিত হয়ে ওঠে। আমাদের একসঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তের জন্য আমি কৃতজ্ঞ। তোমার এই বিশেষ দিনটি ভরে উঠুক আনন্দ, হাসি আর তোমার প্রিয় সবকিছুতে। তোমাকে সব সময় ভালোবাসি। শুভ জন্মদিন!’ জবাবে পূর্ণিমাও সংক্ষিপ্ত অথচ আবেগমাখা কথায় লিখেছেন, ‘ভালোবাসি তোমাকে।’

আজ শনিবার ১১ জুলাই চিত্রনায়িকা পূর্ণিমার জন্মদিন। ১৯৮১ সালের এই দিনে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। সে হিসাবে ৪৪ বছর পূর্ণ করে ৪৫ বছরে পা রাখলেন এই ঢালিউড তারকা।

বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে এমন কয়েকজন অভিনেত্রী আছেন, যাঁদের জনপ্রিয়তা সময়ের সঙ্গে কমেনি; বরং নতুন প্রজন্মের কাছেও গ্রহণযোগ্য থেকেছেন—পূর্ণিমা তাঁদের অন্যতম। সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব ও অভিনয়দক্ষতায় প্রায় তিন দশক ধরে মানুষের ভালোবাসায় রয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর নতুন ছবি প্রকাশ পেলেই ভক্তদের মন্তব্যে বারবার উঠে আসে একই কথা, ‘আমার ক্রাশ’, অথবা ‘পূর্ণিমার বয়স যেন বাড়েই না।’

মাত্র ১৫ বছর বয়সে চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু হয় পূর্ণিমার। ১৯৯৮ সালে জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘এ জীবন তোমার আমার’ সিনেমাটিতে রিয়াজের বিপরীতে অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় তাঁর অভিষেক ঘটে। প্রথম ছবিতেই দর্শক নজর কাড়েন তিনি। এরপর ধারাবাহিকভাবে ব্যবসাসফল ও জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করে ঢালিউডে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন।

প্রায় ২৮ বছরের অভিনয়জীবনে পূর্ণিমা অভিনয় করেছেন ৮০টির বেশি চলচ্চিত্রে। তবে চলচ্চিত্রজীবনে অন্যতম মাইলফলক ২০০৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ভারত–বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনার ‘মনের মাঝে তুমি’। মতিউর রহমান পানু পরিচালিত ছবিটি মুক্তির পর ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং পূর্ণিমা জনপ্রিয়তায় সমসাময়িক সবাইকে ছাড়িয়ে যান। একইভাবে এস এ হক অলিক পরিচালিত ‘হৃদয়ের কথা’ এবং ‘আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা’ চলচ্চিত্রেও তাঁর অভিনয় দর্শকদের প্রশংসা কুড়ায়। বিশেষ করে ‘হৃদয়ের কথা’র গানগুলো সে সময় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।

নায়িকা হিসেবে দেশের প্রায় সব শীর্ষ অভিনেতার সঙ্গে অভিনয় করেছেন পূর্ণিমা। সবচেয়ে বেশি, প্রায় ২৫টি চলচ্চিত্রে জুটি বেঁধেছেন রিয়াজের সঙ্গে। এ ছাড়া মান্না, রুবেল, আমিন খান, শাকিব খান, ফেরদৌস, কাজী মারুফ, আরিফিন শুভসহ সব জনপ্রিয় নায়কের বিপরীতেও দেখা গেছে তাঁকে।

বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের পাশাপাশি সাহিত্যনির্ভর ও সামাজিক গল্পভিত্তিক চলচ্চিত্রেও অভিনয় করে আলোচনায় আসেন পূর্ণিমা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প অবলম্বনে নির্মিত ‘সুভা’ চলচ্চিত্রে বাক্প্রতিবন্ধী এক তরুণীর চরিত্রে অভিনয় করে বিশেষ প্রশংসা পান তিনি। একইভাবে রবীন্দ্রনাথের ‘শাস্তি’ এবং কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুনের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘মেঘের পরে মেঘ’ সিনেমায় তাঁর অভিনয় সমালোচকদের কাছে প্রশংসিত হয়। অভিনয়জীবনের সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি আসে কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘ওরা আমাকে ভাল হতে দিল না’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে—এ ছবিতে অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।

পূর্ণিমার নিজের পছন্দের তালিকায় রয়েছে কয়েকটি আলোচিত চলচ্চিত্রের নাম। তাঁর মতে, ‘সন্তান যখন শত্রু’, ‘যোদ্ধা’, ‘প্রেমের নাম বেদনা’, ‘সুলতান’, ‘পিতা–মাতার আমানত’, ‘মনের মাঝে তুমি’, ‘শাস্তি’, ‘সুভা’, ‘বিয়ের প্রস্তাব’, ‘লোভে পাপ পাপে মৃত্যু’, ‘হৃদয়ের কথা’ এবং ‘ওরা আমাকে ভাল হতে দিল না’ তাঁর প্রিয় কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম।

একসময় চলচ্চিত্রে অভিনয় কমিয়ে উপস্থাপনা ও ছোট পর্দার কাজে মনোযোগ দেন চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা। জাহিদ হাসান পরিচালিত দীর্ঘ ধারাবাহিক নাটক ‘লাল নীল বেগুনী’তে অভিনয় করে দর্শকের প্রশংসা পান। পাশাপাশি উপস্থাপক হিসেবেও আলাদা পরিচিতি গড়ে তোলেন। বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠান, বিশেষ আয়োজন, লাইভ শো ও রিয়েলিটি শোর বিচারকের দায়িত্ব পালন করে মানুষের কাছে আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন পূর্ণিমা।

অভিনয়ে আগের মতো নিয়মিত না হলেও বিনোদন অঙ্গন থেকে দূরে সরে যাননি পূর্ণিমা। তাঁর অভিনীত ‘গাঙচিল’ ও ‘জ্যাম’ দীর্ঘদিন ধরে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। নানা জটিলতায় ছবিগুলোর কাজ আটকে থাকলেও পূর্ণিমাকে নিয়ে দর্শকের আগ্রহ মোটেও কমেনি। সর্বশেষ তাঁকে দেখা গেছে ছটকু আহমেদ পরিচালিত ‘আহারে জীবন’ চলচ্চিত্রে।