চেক বাউন্স সংক্রান্ত একাধিক মামলায় বলিউড অভিনেতা রাজপাল যাদবকে তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন দিল্লি হাইকোর্ট। আজ শুক্রবার বিচারপতি স্বর্ণ কান্তা শর্মা এই রায় ঘোষণা করেন।
মুরলি প্রজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেডের দায়ের করা সাতটি পৃথক মামলায় রাজপাল যাদবকে প্রতিটি ক্ষেত্রে তিন মাসের সাধারণ কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সব সাজা একই সঙ্গে কার্যকর হবে। কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রতিটি মামলায় তাঁকে ১ কোটি ৫ লাখ রুপি পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া তাঁর স্ত্রী রাধা রাজপাল যাদবকেও প্রতিটি মামলায় ৫ কোটির বেশি রুপি জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় আদালত বলেন, "কোম্পানির পাওনা পরিশোধ এবং সমঝোতার শর্ত পূরণের জন্য রাজপাল যাদবকে একাধিকবার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তিনি ও তাঁর আইনজীবী বারবার আদালতে আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত সেই অঙ্গীকার রক্ষা করেননি।"
আদালত তাঁকে এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার জন্য দুই মাস সময় দিয়েছেন।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের মে মাসে একটি সেশনস আদালত একই চেক বাউন্স মামলায় রাজপাল যাদবকে দোষী সাব্যস্ত করে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে দিল্লি হাইকোর্টে আপিল করা হলে তাঁর আইনজীবী জানান যে, উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি হবে। সেই আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট কারাদণ্ড স্থগিত করে বিষয়টি দিল্লি হাইকোর্টের মধ্যস্থতা কেন্দ্রে পাঠিয়েছিলেন।
তবে পরবর্তীতে আদালত লক্ষ্য করেন, বারবার সময় নেওয়া এবং সমঝোতার আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও রাজপাল যাদব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ করেননি। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, তিনি কিস্তিতে ২ কোটি ৫০ লাখ রুপি পরিশোধের অনুমতি চাইলেও সেই অর্থ জমা দেননি।
আগের নির্দেশনা অমান্য করায় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে হাইকোর্ট তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। আত্মসমর্পণের সময় বাড়ানোর আবেদন খারিজ হওয়ার পর ৫ ফেব্রুয়ারি তিনি আত্মসমর্পণ করেন। অভিযোগকারী পক্ষকে ১ কোটি ৫০ লাখ রুপি জমা দেওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীনভাবে তাঁর সাজা স্থগিত করা হয়েছিল। তবে আদালতের দেওয়া একাধিক অঙ্গীকার সত্ত্বেও বাকি অর্থ পরিশোধ না করায় শেষ পর্যন্ত হাইকোর্ট তাঁকে তিন মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন।






