বর্তমানে ভারতের অন্যতম শীর্ষ তারকা হিসেবে পরিচিত যশ। ‘কেজিএফ’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেছেন এবং বর্তমানে ‘টক্সিক’ ও ‘রামায়ণ’ সিনেমা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে আলোচনা। তবে এই আকাশচুম্বী সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। মাত্র ৩০০ টাকা পকেটে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে বেঙ্গালুরুতে আসা এক কিশোরের গল্প এটি, যিনি একসময় খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়ে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন একদিন বড় তারকা হবেন।

কর্ণাটকের এক সাধারণ পরিবারে যশের জন্ম। তাঁর বাবা ছিলেন একজন সরকারি বাসচালক, যার দৈনিক মজুরি ছিল মাত্র ১৪ টাকা। সীমিত আয়ে পুরো পরিবারের ভরণপোষণ চলত। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি প্রবল টান থাকলেও পরিবার শুরুতে তা সহজভাবে নেয়নি। শেষ পর্যন্ত স্বপ্নের টানেই মাত্র ৩০০ টাকা নিয়ে বেঙ্গালুরুর উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি।

শুরুটা ছিল অত্যন্ত কঠিন। শহরে পরিচিত কেউ না থাকায় এবং কাজের নিশ্চয়তা না থাকায় অনেক রাত তাঁকে রাস্তায় কাটাতে হয়েছে। এক সাক্ষাৎকারে যশ বলেছিলেন, "পুলিশের তাড়ায় মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যাওয়ার ভয় নিয়ে ফুটপাতে শুয়ে থাকতেন।"

সেই কঠিন সময়েই তিনি সংকল্প করেন যে, জীবনে আর কখনো এমন অবস্থায় ফিরবেন না এবং একজন বড় অভিনেতা হবেন। থিয়েটার, ছোট চরিত্র এবং টেলিভিশন ধারাবাহিকের মাধ্যমে ধাপে ধাপে ক্যারিয়ার গড়েন তিনি। কন্নড় চলচ্চিত্রে জনপ্রিয়তা পেলেও ‘কেজিএফ’ সিরিজের ‘রকি ভাই’ চরিত্রের মাধ্যমে তিনি পুরো ভারতের দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নেন। এই সিনেমাটি বক্স অফিসের রেকর্ড ভাঙার পাশাপাশি কন্নড় চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিত করে তোলে।

সাফল্যের শিখরে পৌঁছেও যশের পরিবার জীবনযাত্রায় খুব একটা পরিবর্তন আনেনি। ছেলে কোটি কোটি রুপির তারকা হয়ে ওঠার পরও তাঁর বাবা অবসরের আগ পর্যন্ত বাসচালকের পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। যশের মতে, বাবার এই আত্মসম্মান ও কর্মনিষ্ঠাই তাঁকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করে।

বর্তমানে যশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে ‘টক্সিক’ সিনেমা। এছাড়া প্রযোজক হিসেবে তিনি যুক্ত হয়েছেন ‘রামায়ণ’ ছবির সঙ্গে। বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই পর্বে নির্মিত এই প্রকল্পের সম্ভাব্য বাজেট প্রায় চার হাজার কোটি রুপি, যা ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম ব্যয়বহুল নির্মাণ হতে পারে।

নিজের সংগ্রাম নিয়ে খুব বেশি কথা বলেন না যশ। খুব কম সাক্ষাৎকার দিলেও তিনি মনে করেন, তাঁর কাজই কথা বলবে।

আর্থিক অবস্থার কথা বলতে গেলে, যশ বর্তমানে ৫৩ কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক। তাঁর মাসিক আয় ৫৫-৬০ লক্ষ টাকা এবং বার্ষিক আয় সাত-আট কোটি টাকা। তবে প্রতিটি সিনেমার জন্য তিনি ২০-২৫ কোটি টাকা পারিশ্রমিক নেন। বেঙ্গালুরুর বিলাসবহুল এলাকায় ডুপ্লেক্স আবাসনে বসবাসকারী যশের সংগ্রহে রয়েছে মার্সিডিজ বেঞ্জ, অডি এবং বিএমডব্লিউ-এর মতো দামি গাড়ি। অভিনয়ের পাশাপাশি নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মাধ্যমে সমাজসেবাও করেন তিনি। স্ত্রী রাধিকা পণ্ডিত, দুই সন্তান আইরা ও আয়ুশ এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে তিনি সংসার করেন।