আশির দশকের জনপ্রিয় গান ‘টোটাল ইক্লিপস অব দ্য হার্ট’ ও ‘হোল্ডিং আউট ফর আ হিরো’–এর কণ্ঠশিল্পী ওয়েলশ পপ–রক তারকা বনি টাইলার মারা গেছেন। বুধবার পর্তুগালের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।

আজ বৃহস্পতিবার বনি টাইলারের ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘গভীর শোকের সঙ্গে জানাচ্ছি, চিকিৎসাধীন অসুস্থতার কারণেই গত রাতে পর্তুগালের একটি হাসপাতালে বনি অপ্রত্যাশিতভাবে মারা গেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে শিগগিরই আরও বিস্তারিত জানানো হবে। এই কঠিন সময়ে আমরা সবার কাছে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

গত মে মাসে পর্তুগালের ফারো শহরে—যেখানে তাঁর একটি বাড়ি ছিল—জরুরি অন্ত্রের অস্ত্রোপচারের জন্য বনি টাইলার হাসপাতালে ভর্তি হন। অস্ত্রোপচারের পর তাঁকে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে কৃত্রিম কোমায় রাখা হয়। এ সময় তাঁর গ্রীষ্মকালীন কনসার্ট সফরও স্থগিত হয়ে যায়। পরে জুনে তিনি কোমা থেকে জেগে উঠলেও তখনো তাঁর শারীরিক অবস্থা ছিল আশঙ্কাজনক। দীর্ঘদিন নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

১৯৫১ সালের ৮ জুন ওয়েলসের স্কিউয়েন এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন বনি টাইলার। তাঁর জন্মনাম গেইনর হপকিন্স। পরে ট্যালেন্ট স্কাউট রজার বেলের নজরে এসে তিনি সংগীতজগতে সুযোগ পান। ১৯৭৭ সালে ‘লস্ট ইন ফ্রান্স’ গান এবং প্রথম অ্যালবাম ‘দ্য ওয়ার্ল্ড স্টার্টস টুনাইট’ দিয়ে তাঁর যাত্রা শুরু হয়। ক্যারিয়ারের শুরুতে স্বরযন্ত্রের গিঁট অপসারণে অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছিল তাঁকে। ওই অস্ত্রোপচারের পরই তাঁর কণ্ঠে যে স্বতন্ত্র কর্কশতা তৈরি হয়, সেটি পরবর্তী সময়ে তাঁর পরিচয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হয়ে ওঠে।

আশির দশকের শুরুতে প্রযোজক ও গীতিকার জিম স্টেইনম্যানের সঙ্গে কাজ শুরু করেন বনি টাইলার। স্টেইনম্যানের লেখা ‘টোটাল ইক্লিপস অব দ্য হার্ট’ তাঁকে বিশ্বজোড়া খ্যাতি এনে দেয়। প্রায় ৬০ লাখ কপি বিক্রি হওয়া গানটি ১৯৮৩ সালে যুক্তরাজ্যের পঞ্চম সর্বাধিক বিক্রীত সিঙ্গেল ছিল। একই বছর যুক্তরাষ্ট্রের বিলবোর্ড চার্টে টানা চার সপ্তাহ এক নম্বরে ছিল গানটি। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সংগীত চার্টে এক নম্বরে ওঠা প্রথম ওয়েলশ শিল্পী হন তিনি।

এর পরের বছর স্টেইনম্যানের সহলেখা ‘হোল্ডিং আউট ফর আ হিরো’ হলিউডের জনপ্রিয় ছবি ‘ফুটলুজ’–এর সাউন্ডট্র্যাকে জায়গা করে নেয়। ১৯৮৫ সালে ‘মেট্রোপলিস’–এর পুনর্নির্মিত সংস্করণের সাউন্ডট্র্যাকেও ছিল তাঁর গাওয়া ‘হিয়ার শি কামস’।

ক্যারিয়ারে বনি টাইলার তিনবার গ্র্যামি পুরস্কারের মনোনয়ন পেয়েছিলেন। এর মধ্যে ‘টোটাল ইক্লিপস অব দ্য হার্ট’–এর জন্য সেরা নারী পপ একক পরিবেশনা এবং ‘ফাস্টার দ্যান দ্য স্পিড অব নাইট’ ও ‘হিয়ার শি কামস’–এর জন্য নারী রক ভোকাল পারফরম্যান্স বিভাগে মনোনয়ন ছিল। ২০১৩ সালে ‘বিলিভ ইন মি’ গান নিয়ে ইউরোভিশন সং প্রতিযোগিতায় যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি। গানটি ছিল তাঁর ১৬তম অ্যালবাম ‘রকস অ্যান্ড হানি’–এর অংশ। ২০২১ সালে প্রকাশিত ‘দ্য বেস্ট ইজ ইয়েট টু কাম’ ছিল তাঁর শেষ স্টুডিও অ্যালবাম। তবে চলতি বছরের মার্চে লন্ডনের এক কনসার্টে তিনি নতুন গান ‘ওনলি লাভ’–এরও আত্মপ্রকাশ ঘটান।

সংগীতজীবনের পাঁচ দশকের অভিজ্ঞতা নিয়ে ২০২৩ সালে আত্মজীবনী ‘স্ট্রেইট ফ্রম দ্য হার্ট’ প্রকাশ করেন বনি টাইলার। একই বছর সংগীতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে মেম্বার অব দ্য অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার (এমবিই) সম্মানে ভূষিত করা হয়। ১৯৭৩ সালে ব্যবসায়ী রবার্ট সুলিভানকে বিয়ে করেছিলেন বনি টাইলার। মৃত্যুকালে স্বামীকে রেখে গেছেন তিনি।