চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় বন্যার পানিতে চারপাশ প্লাবিত হওয়ার মধ্যে প্রসব বেদনায় কাতর এক গৃহবধূকে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টার দিকে উপজেলার পশ্চিম আমিরাবাদ ইউনিয়নের খৈয়ারকুল গ্রামে এ উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। উদ্ধারকৃত ওই গৃহবধূর নাম মিজবাহুল জান্নাত (২২)। তিনি ওই এলাকার সৌদি আরবপ্রবাসী রিয়াজ উদ্দিনের স্ত্রী।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ডলু নদের তীরবর্তী খৈয়ারকুল গ্রামটি অতি ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয়েছে। গতকাল বুধবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে মিজবাহুলের প্রসব বেদনা শুরু হয়। বাড়ি থেকে উপজেলা সদরের হাসপাতালের দূরত্ব প্রায় দুই কিলোমিটার হলেও গলাসমান পানির কারণে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। কয়েক ঘণ্টা যন্ত্রণায় কাটানোর পর ভোরের দিকে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয় পরিবার। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্ট্রেচারে করে তাঁকে নিরাপদে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর ওই গৃহবধূ একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। বর্তমানে মা ও নবজাতক উভয়ই সুস্থ আছেন।

লোহাগাড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা রাখাল চন্দ্র রুদ্র মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘খবর পাওয়ার পর আমাদের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। প্রায় দেড় ঘণ্টার অভিযানে ওই নারীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা স্টেশনে আগে থেকেই একটি অ্যাম্বুলেন্স রাখা ছিল। স্টেশন থেকে তাঁর শ্বশুরবাড়ির দূরত্ব প্রায় ৬০০ মিটার। পুরো পথই পানির নিচে ছিল। আমরা তাঁকে স্ট্রেচারে কাঁধে বহন করে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে হাসপাতালে পাঠাই।’

এদিকে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। ডলু, সাঙ্গু ও টঙ্কাবতীর পানি বেড়ে বিস্তীর্ণ এলাকা এখন পানির নিচে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় সাতকানিয়া অংশে সাঙ্গু নদের পানি বিপৎসীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এছাড়া ডলু ও টঙ্কাবতী নদীর পানিও বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত রাত থেকে দুই উপজেলার সব ইউনিয়ন প্লাবিত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

পাউবোর চট্টগ্রাম উপবিভাগীয় প্রকৌশলী প্রশান্ত তালুকদার আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টায় দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তাই পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থানের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।