তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ সংবিধানের বিভিন্ন পরিবর্তন আনা পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের রায় আজ বৃহস্পতিবার ঘোষণা করবেন আদালত। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ গতকাল বুধবার তৃতীয় দিনের শুনানি শেষে আজকের দিনটি রায়ের জন্য ধার্য করেন।
পঞ্চদশ সংশোধনীর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে তিনটি পৃথক আপিল দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি আপিল করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ চার ব্যক্তি, অন্যটি নওগাঁর বাসিন্দা মো. মোফাজ্জল হোসেন এবং তৃতীয়টি জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
একটি ব্রিফিংয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, "পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে মূলত দেশের সংবিধানের আমূল পরিবর্তন করা হয়েছিল। এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের বাক্স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, আগামী দিনের অগ্রযাত্রা, দেশের অগ্রযাত্রা, গণতন্ত্রের অভিযাত্রা—সবকিছুই বাধাগ্রস্ত ছিল।"
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেলের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির জানান, শুনানির সময় তিনি উল্লেখ করেছেন যে, "পঞ্চদশ সংশোধনীর যেসব বিষয় বেসিক স্ট্রাকচারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, সেগুলোর ব্যাপারে আদালত সিদ্ধান্ত দিতে পারেন।"
তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ২০১১ সালের ৩০ জুন সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পাস করে, যার মাধ্যমে সংবিধানে ৫৪টি ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হয়। এই সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং জাতীয় চার মূলনীতি—জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনা হয়। এছাড়া অবৈধ ক্ষমতা দখলের সর্বোচ্চ শাস্তির বিধানও যুক্ত করা হয়।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরো আইন এবং নির্দিষ্ট কিছু ধারার বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে দুটি আলাদা রিট দায়ের করা হয়। শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রায় প্রদান করেন। ওই রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট বাদ দেওয়া সংক্রান্ত সংবিধান আইনের ২০ ও ২১ ধারা বাতিল করা হয়। পাশাপাশি ৭ক, ৭খ এবং ৪৪(২) অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় তা বাতিল ঘোষণা করে হাইকোর্ট।
হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে গত সোমবার থেকে আপিল বিভাগে শুনানি শুরু হয়। মঙ্গলবার ও বুধবারের শুনানি শেষে আজ রায়ের দিন ধার্য করা হয়। শুনানিতে অপর আপিলকারীর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবির। রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও অনীক আর হক এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্যাহ আল মাসুদ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া লিভ টু আপিলকারী সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইমরান এ সিদ্দিক শুনানিতে অংশ নেন।






