অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আবারও পিছিয়ে গেছে। আদালত আগামী ১০ আগস্ট এই শুনানির জন্য নতুন দিন ধার্য করেছেন।
বুধবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০-এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. আবদুস সালাম এই তারিখ নির্ধারণ করেন। এর আগে গত ২৪ মে একই কারণে শুনানি পেছানো হয়েছিল।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর শাহ মো. নাজমুজ সাকিব মুক্তকণ্ঠকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "বুধবার অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। আদালত নতুন দিন ধার্য করেছেন। এই মামলায় শুধু আসামি মুদ্দাসির খান জ্যোতি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। অন্য আসামিরা পলাতক।"
মামলার অন্য আসামিরা হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্ত্রী লুৎফুল তাহমিনা খান, ছেলে শাফি মুদ্দাসির খান জ্যোতি এবং মেয়ে শাফিয়া তাসনিম খান। বুধবার সকালে কারাগারে থাকা আসামি জ্যোতিকে আদালতে হাজির করা হয়। তবে বিশেষ জজ আদালত-১০-এর বিচারক ছুটিতে থাকায় শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি, যার ফলে ভারপ্রাপ্ত বিচারক নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। শুনানি না হওয়ায় শাফি মুদ্দাসির খান জ্যোতিকে এজলাসে নেওয়ার কিছুক্ষণ পর দুপুর ১২টা ২ মিনিটে পুলিশের কঠোর নিরাপত্তায় পুনরায় হাজতখানায় পাঠানো হয়।
২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। এই মামলাটি দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় করা হয়। তদন্ত শেষে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর আসাদুজ্জামান খান কামালসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক।
দুদকের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আসাদুজ্জামান খান একজন পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক অসদাচরণের মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ২২ কোটি ৫৮ লাখ ৪০ হাজার ১৬২ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। এছাড়া তিনি ৯টি ব্যাংকের মাধ্যমে ৮৭ কোটি ৪৬ লাখ ২৬ হাজার ৯৩৩ টাকা লেনদেন করে মানি লন্ডারিংয়ের অপরাধে লিপ্ত হয়েছেন এবং দুর্নীতি ও ঘুষের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ বা সম্পত্তির অবৈধ উৎস গোপন করতে তা রূপান্তর, স্থানান্তর বা হস্তান্তর করেছেন।






