কুমিল্লার দেবীদ্বারে এক মাদ্রাসাছাত্রীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি করেন। তবে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এই ঘটনায় অভিযুক্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
মামলার আসামিরা হলেন—দেবীদ্বার পৌর এলাকার রমিজ মিয়ার ছেলে সবুজ মিয়া (২৪) এবং আবুল হোসেনের ছেলে মো. ইসমাইল (২৯)। তারা সম্পর্কে খালাতো ভাই এবং সম্প্রতি বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছেন।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে দেবীদ্বার পৌর এলাকার বারেরা ফুলগাছতলা দিয়ে যাওয়ার সময় সবুজ ও ইসমাইল ওই ছাত্রীকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে একটি অটোরিকশায় তুলে নেন। পরে তাকে সবুজ মিয়ার বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। সেখান থেকে কৌশলে পালিয়ে এসে মেয়েটি পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায়।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, ঘটনার পর আসামিরা আত্মগোপনে চলে যান এবং স্থানীয় কিছু দালালের মাধ্যমে তিন লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। মঙ্গলবার ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে মেয়েটির মা-বাবা ঢাকা থেকে বাড়িতে ফিরে এসে থানায় মামলা করেন।
মেয়েটির বাবা জানান, ‘আমি ঢাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করি। আমার স্ত্রীও তখন ঢাকা ছিল। সংবাদ পেয়ে আমরা বাড়ি আসি। যারা আমার মেয়ের সর্বনাশ করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রী জানায়, ‘সবুজ প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিল। রাজি না হওয়ায় ভয়ভীতি দেখিয়ে গত শনিবার সকাল আটটায় কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের বারেরা ফুলগাছতলায় ডেকে নেয়। সেখানে গলায় ছুরি ঠেকিয়ে এবং হুমকির মুখে সবুজ ও ইসমাইল সেখান থেকে আমাকে সবুজের বাড়িতে নিয়ে যায়। সবুজের স্ত্রী বাড়িতে ছিল না। সেখানে সবুজ ও ইসমাইল আমাকে নির্যাতন করে। ঘটনাটি কাউকে জানালে অ্যাসিড দিয়ে মুখ ঝলসে দেবে এবং আমার বাবাকে হত্যা করার হুমকি দেয়।’
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখার পর পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ভুক্তভোগী মেয়ের মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। বুধবার মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে তার ২২ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।






