বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিতে ‘সভেরেন গ্যারান্টি’ থাকায় সেগুলো বাতিল করা সময়সাপেক্ষ বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি জানান, বিগত সরকারের আমলে করা এসব চুক্তি বর্তমানে পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে।

বুধবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য মারদিয়া মমতাজের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার যেসব বিদ্যুৎ (উৎপাদনের দায়িত্ব) প্রাইভেট কোম্পানিকে দিয়েছিল, তাদের সাথে যে অ্যাগ্রিমেন্ট (চুক্তি) করেছিল, সেখানে সভেরেন গ্যারান্টি দেওয়া হয়। সভেরেন গ্যারান্টি হচ্ছে রাষ্ট্রের গ্যারান্টি। এই গ্যারান্টি বাতিল করা অনেক সময়সাপেক্ষ।’

চুক্তির বিভিন্ন শর্ত নিয়ে আলোচনার কথা উল্লেখ করে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি, তাদের সাথে আরও অনেক বিষয় জড়িত আছে, বিশেষ করে লেট পেমেন্ট ফি (বিলম্ব ফি), এগুলো আমরা দেব না বলে আলোচনা করছি। আশা করি, এ ক্ষেত্রে আমরা ফলপ্রসূ আলোচনা করতে পারব।’

বিদ্যুৎ সরবরাহ ও দর-কষাকষির চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র যখন উৎপাদন কার্যক্রম প্রবেশ করে, তখন সিস্টেমকে চালিয়ে রাখার জন্য কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রের সাথেই জোড়াতালি দেওয়া যায় না, শক্ত নেগোসিয়েশন (দর-কষাকষি) করা যায় না। সে জন্য যত দিন পর্যন্ত এদের সঙ্গে চুক্তি আছে, আমরা চেষ্টা করব যাতে দাম কমিয়ে নিয়ে আসা যায় এবং সহজ মূল্যে বিদ্যুৎ পাওয়া যায়।’

সংরক্ষিত আসনের অপর সদস্য সাবিকুন্নাহারের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ২০১০ সালের বিশেষ বিধান আইনের অধীনে সম্পাদিত বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিগুলো পর্যালোচনায় গঠিত দুটি কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে এবং সেই সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কুইক রেন্টাল প্রসঙ্গে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে কোনো কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বা তাদের সঙ্গে নিয়মিত চুক্তি নেই। তবে মেয়াদোত্তীর্ণ দুটি কেন্দ্রের সঙ্গে ‘নো ইলেকট্রিসিটি নো পেমেন্ট’ ভিত্তিতে চুক্তি নবায়ন করা হয়েছে। ফলে কোনো ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে না।

গ্যাস সংকট নিয়ে ঢাকা-৫ আসনের মোহাম্মদ কামাল হোসেনের প্রশ্নের উত্তরে জ্বালানিমন্ত্রী জানান, দৈনিক ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ মিলছে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এই ঘাটতির কারণে ঢাকা শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস বিতরণ ব্যাহত হচ্ছে।

জ্বালানি তেলের দাম প্রসঙ্গে রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমতে শুরু করলেও তা এখনো ব্রেক-ইভেন্ট পয়েন্টের ওপরে রয়েছে। ফলে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রল বিক্রিতে বিপিসিকে দৈনিক ৭৮ কোটি টাকা লোকসান দিতে হচ্ছে। গত মার্চ থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত মোট লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৬৯৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম আরও কমে সহনশীল পর্যায়ে এলে দেশের বাজারেও মূল্য কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে তিনি জানান।