দেশের সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)-এর ২০২৬–২০২৮ মেয়াদি দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের নতুন দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হয়েছে। ঘোষিত পুনঃ তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে গত ২৭ জুন ভোট গ্রহণের কথা থাকলেও বিশেষ পরিস্থিতিতে তা স্থগিত করা হয়েছিল।

সংগঠনটির একাধিক সদস্যের মতে, একটি বিশেষ মহল বেসিসকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ব্যবসায়ীদের এই সংগঠনটিকে পিছিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সদস্যরা নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করছেন বলে তারা অভিযোগ করেন। তবে সাধারণ সদস্যদের বড় অংশই একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রত্যাশা করছেন।

নির্বাচন পরিচালনার সার্বিক প্রস্তুতি প্রসঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ও বেসিস নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান তানিয়া ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে আজ মুঠোফোনে বলেন, ‘কোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সেই কারণে এবার আমরা সচিবালয়ে মনোনয়নপত্র জমা নিচ্ছি। আমরা চাই, একটা সুষ্ঠু নির্বাচন করতে। আমরা তিনজন কমিটিতে আছি, আমরা বসেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইতিমধ্যেই আমরা তফসিল ঘোষণা করেছি, আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর নির্বাচন।’

গত ৩০ জুন প্রকাশিত নতুন তফসিল অনুযায়ী, বেসিসের কার্যনির্বাহী পরিষদের মোট ১১টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভোটের দিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ চলবে এবং ওই দিনই ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ভোটার হওয়ার জন্য সদস্যপদ নবায়ন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী ৩১ জুলাই। ৩ আগস্ট প্রাথমিক ভোটার তালিকা প্রকাশের পর আপত্তি ও নিষ্পত্তি শেষে ১৪ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা ১৪ থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দিতে পারবেন। পদভেদে মনোনয়নপত্রের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বনিম্ন ৮০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ দেড় লাখ টাকা।

মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ২৬ আগস্ট প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। এরপর আপিল নিষ্পত্তি শেষে ২ সেপ্টেম্বর বৈধ প্রার্থীদের তালিকা এবং ৩ সেপ্টেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে। সব প্রক্রিয়া শেষে ৫ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন বোর্ড। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গঠিত এই বোর্ডই নির্বাচনের যাবতীয় নিয়মকানুন ও পরিচালনা পদ্ধতি নির্ধারণ করবে।

সংগঠনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বেসিসের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি এ তৌহিদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘বেসিস শুরু করেছিলাম অনেক স্বপ্ন নিয়ে। একজন বাবা সন্তানকে যেমন ভালোবাসে, তেমনিভাবে সংগঠনটিকে বড় করেছিলাম সহযোদ্ধাদের নিয়ে। আজ বেসিস কেমন যেন হয়ে গেছে। আমি শুধু বলবো, নির্বাচনে যে বা যারাই বিজয়ী হোক আমাদের স্বপ্নগুলো নষ্ট না করে বেসিসকে যেন পরিচালনা করে। আমরা অনেক কষ্ট করে এই সংগঠন গড়েছি।’

অন্যদিকে, নেতৃত্বের ধারাবাহিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বেসিসের সাবেক পরিচালক ও ফ্লোরা টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাফা রফিকুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘বেসিসের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনে নির্বাচন ও নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা কতটা জরুরি, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার এই মানসিকতাই আমাদের আইসিটি খাতকে আরও শক্তিশালী করবে। সর্বোপরি বৈশ্বিক প্রযুক্তির বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে বেসিসের অভ্যন্তরীণ গতিশীলতা এবং নিয়মিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া (নির্বাচন) বজায় রাখা জরুরি।’