ভারী বর্ষণের ফলে চট্টগ্রাম নগরের মুরাদপুর সংলগ্ন এলাকায় রেললাইন পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এই রেলপথে প্রতিদিন চার জোড়া ট্রেন চলাচল করে, যার মধ্যে দুই জোড়া চট্টগ্রাম থেকে এবং দুই জোড়া ঢাকা থেকে কক্সবাজারের যাতায়াত করে।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক আবু বক্কর সিদ্দিকী ট্রেন চলাচল বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, "রেললাইনে পানি ওঠার কারণে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ট্রেন চালানো হবে।"

গত মঙ্গলবার দুপুরে নগরের মুরাদপুরের সুন্নিয়া মাদ্রাসা এলাকায় রেললাইন পানিতে ডুবে যায়। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।

রেলওয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) আনিসুর রহমান জানান, চট্টগ্রাম নগরের ষোলোশহর-জানালিহাট সেকশনের মধ্যবর্তী ওই স্থানে প্রায় দুই ফুট পানিতে রেললাইন ডুবে আছে। এর ফলে আজ ভোরে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কক্সবাজার এক্সপ্রেস চট্টগ্রামে আটকে পড়ে এবং গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি। ট্রেনটি বিকেল চারটায় ঢাকার উদ্দেশে চট্টগ্রাম ছেড়ে আসবে।

এদিকে আজ সকালে চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল সৈকত এক্সপ্রেসের। তবে যাত্রা বাতিল হওয়ায় যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন। এই ট্রেনের যাত্রী আহাদ চৌধুরী জানান, তাঁরা ১৩ বন্ধু সিলেটে ভ্রমণ শেষে উদয়ন ট্রেনে করে চট্টগ্রামে আসেন এবং আগে থেকেই সৈকত এক্সপ্রেসের টিকিট কেটে রেখেছিলেন। তবে কোনো পূর্ব ঘোষণা না পাওয়ায় তাঁরা বিপাকে পড়েছেন। তিনি বলেন, "ট্রেন না চলায় বাসে করে গন্তব্যে যাবেন।"

বিকেলে চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে প্রবাল এক্সপ্রেস ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও সেই যাত্রা এখন অনিশ্চিত। মূলত সৈকত এক্সপ্রেস কক্সবাজার থেকে ফেরার পর তা ‘প্রবাল এক্সপ্রেস’ নামে বিকেলে যাত্রা করে।

উল্লেখ্য, এই রেলপথ দিয়ে ঢাকা থেকে পর্যটক ও কক্সবাজার এক্সপ্রেস নামের দুটি আন্তনগর ট্রেন চলাচল করে, যে দুটি ট্রেন চট্টগ্রাম স্টেশনে বিরতি দিয়ে কক্সবাজারের দিকে যায়। বর্তমানে এই ট্রেন দুটির যাত্রাও বাতিল করা হয়েছে।