নরসিংদীর মাধবদীর একটি আবাসন প্রকল্পে খালি জায়গায় দুই হাজার ফলদ ও বনজ গাছের চারা রোপণ করেছিল মুক্তকণ্ঠের পাঠক সংগঠন বন্ধুসভা জাতীয় পর্ষদ। চারাগুলো রোপণের তিন দিন পরই রাতের আঁধারে ওই প্রকল্পে ঢুকে শতাধিক চারা কেটে ধ্বংস করেছেন স্থানীয় একদল লোক। ‘চারাগুলোর কী অপরাধ’—এমন প্রশ্ন তুলছেন বন্ধুসভা ও আবাসন প্রকল্পের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা।

২৯ জুন দিবাগত রাত তিনটার দিকে মাধবদীর আমদিয়া ইউনিয়নের কান্দাইল এলাকার পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী আবাসন প্রকল্পে ফলদ ও বনজ গাছের চারাগুলো কেটে ফেলার ঘটনা ঘটে। এর তিন দিন আগে ২৬ জুন ওই আবাসন প্রকল্পে চারা রোপণ করে বন্ধুসভার জাতীয় পরিচালনা পর্ষদ। অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ প্রকল্পের জাতীয় সেলের সদস্য ও কারিগরি বিশেষজ্ঞ জামাইল বশীর জেবি। ‘বৃক্ষ শুধু রোপণ নয়, যত্ন নিয়ে বাঁচাতে হয়’ স্লোগানে চারাগুলো রোপণ করেছিলেন তাঁরা। এ ঘটনায় ২ জুলাই আবাসন প্রকল্পটির প্রজেক্ট স্টাফ রাজীব হোসেন মাধবদী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ইতিমধ্যে পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ।

পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী আবাসন কর্তৃপক্ষ বলছে, ২৯ জুন রাতে দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একদল লোক প্রবাসী পল্লীতে আসেন। তাঁরা ভেতরে প্রবেশ করে পোস্ট ক্যাম্পে ভাঙচুর চালান। পরে মুক্তকণ্ঠ বন্ধুসভার উদ্যোগে সামাজিক ও পরিবেশগত উন্নয়নের লক্ষ্যে সারিবদ্ধভাবে রোপণ করা শতাধিক ফলদ ও বনজ গাছের চারা কেটে ফেলেন। এ ঘটনায় জড়িত মোজাম্মেল, সিরাজুল, তাহারুল, মামুন, মাসুদ, ফিরোজ ও আমান—এই সাতজনকে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁরা পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার গুতুলিয়া এলাকার বাসিন্দা ও পার্শ্ববর্তী আবাসন প্রতিষ্ঠান পূর্বায়ন সিটিতে কর্মরত। এ ছাড়া ওই ঘটনায় জড়িত ছিলেন আরও ১০-১২ জন। তাঁদের পরিচয় শনাক্ত হয়নি।

আবাসন প্রকল্পটির প্রজেক্ট স্টাফ রাজীব হোসেন বলেন, ‘আমরা গাছের চারাগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা করে আসছিলাম। প্রজেক্টে হামলার সময় তাঁরা ওই চারাগুলোও কেটে ফেলেছেন। এ ঘটনায় সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে মাধবদী থানায় জিডি করি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও এ পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আমরা চাই, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পুলিশ দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিক।’

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। রাতের আঁধারে গাছগুলো কাটা হয়েছে। এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষ একটি জিডি করেছে। যাঁদের নাম এসেছে, দ্রুত যাচাই-বাছাই শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মুক্তকণ্ঠ বন্ধুসভা জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি জাফর সাদিক বলেন, ‘বৃক্ষহীন স্থানে বৃক্ষরোপণের উদ্দেশ্যে এ জায়গাটা খুঁজে বের করে ঢাকা থেকে গিয়ে সবাই মিলে গাছগুলো রোপণ করেছিলাম। তিন বছর ধরেই আমরা এখানে গাছের চারা রোপণ করছি। এবারও দুই হাজার চারা রোপণ করেছিলাম। প্রকল্পের কর্মীরা গাছগুলো যত্ন করে বড় করে তুলেছিলেন। অথচ ওই গাছগুলোই কেটে ফেলা হয়েছে। যখন সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কোটি কোটি বৃক্ষরোপণের জন্য কাজ করছে, তখন আমরা নিজেদের উদ্যোগে এত কষ্ট করে বৃক্ষরোপণের পর যদি শত্রুতা করে সেগুলো কেটে ফেলা হয়, সেটা ভয়ংকর অন্যায়। গাছগুলো কেন কাটা হয়েছে, সেটা জানা গুরুত্বপূর্ণ না। গাছগুলো রাতের আঁধারে কেটে ফেলা হয়েছে, এটাই বড় অপরাধ। গাছগুলো যারাই কেটেছে, তাদের শাস্তি হতে হবে।’

উল্লেখ্য, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে বন্ধুসভা সারা দেশে লক্ষাধিক গাছের চারা রোপণ করে। সেগুলোর যত্ন নিয়ে বড় করে তোলা বন্ধুসভার অন্যতম ভালো কাজ।