বরিশালে মারধরের পর শরীরের সংবেদনশীল স্থান চেপে ধরে এক আবাসন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জোরপূর্বক চেক ও নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই আসামিকে কারাফটকে দুই দিন জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে শুনানি শেষে বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক নুরুন নাজনীন এই আদেশ দেন।
মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রেজাউল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নির্যাতনের শিকার আবাসন ব্যবসায়ী আবদুল আজিজ হাওলাদারের দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে লিটু ও তাঁর সহযোগী আবুল কালাম আজাদকে গত রোববার দুপুরে কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করে। মামলার অধিকতর তদন্তের স্বার্থে তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান রাসেল ওই দিন দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত আবেদনটি আজ শুনানির জন্য রেখেছিলেন। সেই অনুযায়ী শুনানি হলো।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান রাসেল প্রথম আলোকে বলেন, ‘দুই আসামির ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলাম; কিন্তু আদালত আজ শুনানি শেষে কারাফটকে আসামিদের দুই দিন জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছেন।’
গত ২৭ জুন সন্ধ্যায় নগরের সদর রোডে অগ্রণী হাউজিং কোম্পানি লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল আজিজ হাওলাদার তাঁর কক্ষে বসে চা পান করছিলেন। আকস্মিক চার থেকে পাঁচজন ব্যক্তি তাঁর কক্ষে ঢোকেন। এ সময় সবাইকে বের করে দিয়ে মোস্তাফিজুর রহমান আজিজ হাওলাদারকে জাপটে ধরেন এবং তাঁকে চড়থাপ্পড় মারাসহ শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। একপর্যায়ে শরীরের সংবেদনশীল স্থান চেপে ধরে দুটি চেকে ও দুটি স্ট্যাম্পে তাঁর সই নেওয়া হয়। এ ঘটনার সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা ৪ মিনিট ১৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ৪ জুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় নির্যাতিত ব্যবসায়ী আবদুল আজিজ হাওলাদার বাদী হয়ে সাতজনকে আসামি করে ২ জুন বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। বিচারক মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণের জন্য কোতোয়ালি মডেল থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। মামলায় মোস্তাফিজুর রহমানকে প্রধান আসামি করা হয়। এরপর রোববার প্রধান আসামিসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে অন্য আসামিরা এখনো গ্রেপ্তার হননি।






