চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি করা ২৫০টি চালানের অবস্থান নিয়ে সৃষ্ট ধোঁয়াশা কাটতে শুরু করেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সার্ভারে খালাস স্থগিত বা ‘ব্লক’ দেখানো এসব চালানের বিপরীতে ২৯৩টি কনটেইনারের হদিস দিয়ে কাস্টম হাউসকে চিঠি দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

গত সোমবার চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে পাঠানো এক ফিরতি চিঠিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এর আগে গত জানুয়ারিতে কাস্টম হাউস থেকে বন্দর কর্তৃপক্ষকে সর্বশেষ চিঠি দিয়ে এসব চালানের বর্তমান অবস্থা জানতে চাওয়া হয়েছিল।

বন্দর কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, কাস্টমস যে ২৫০টি চালানের কথা উল্লেখ করেছিল, যাচাই-বাছাই শেষে তার প্রকৃত সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪৭টিতে। এর মধ্যে সিংহভাগ চালানই ইতিমধ্যে খালাস হয়েছে, কিছু চালান বেসরকারি কনটেইনার ডিপোতে (আইসিডি) পাঠানো হয়েছে এবং বাকিগুলো বন্দরের ইয়ার্ড ও শেডে সংরক্ষিত রয়েছে।

সম্প্রতি বিভিন্ন মহলে কনটেইনার ‘নিখোঁজ’ হওয়ার গুঞ্জন উঠলেও কাস্টমস কর্মকর্তারা একে তথ্য যাচাইয়ের একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছেন। তারা জানান, এনবিআরের সার্ভারে যেসব চালানের খালাস স্থগিত দেখাচ্ছিল, সেগুলো বাস্তবে কোথায় আছে তা নিশ্চিত হতেই দফায় দফায় বন্দরকে চিঠি দেওয়া হয়।

নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত জানুয়ারিতে চট্টগ্রাম কাস্টমের উপকমিশনার মো. তারেক মাহমুদ বন্দরের টার্মিনাল ব্যবস্থাপককে চিঠি দিয়ে ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে আমদানি করা ২৫০টি চালানের অবস্থান জানতে চান। এর আগে গত ডিসেম্বরেও একই বিষয়ে পাঁচটি পৃথক চিঠি দেওয়া হয়েছিল।

বন্দরের চিঠিতে জানানো হয়েছে, ১৬৪টি চালানের বিপরীতে মোট ২৯৩টি কনটেইনারের মধ্যে ৮৮টি কাস্টমসের আউটপাসের মাধ্যমে খালাস হয়েছে। ৭০টি কনটেইনার স্থানান্তর করা হয়েছে বেসরকারি ডিপোতে। বর্তমানে বন্দরের ইয়ার্ডে রয়েছে ১৩১টি কনটেইনার। তবে চারটি কনটেইনারের তথ্যে ভুল রয়েছে বলে জানানো হয়।

বাকি ৮৩টি চালান ছিল এলসিএল (লেস দ্যান কনটেইনার লোড) কার্গো বা গ্রুপভুক্ত পণ্য। এর মধ্যে ৮টি চালান খালাস হয়েছে এবং ৩৫টি বর্তমানে বন্দরের শেডে রয়েছে। বাকি ৪০টি চালানের তথ্য সঠিক নয় বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস যেসব কনটেইনারের অবস্থান জানতে চেয়েছিল, সেগুলোর কোনোটি নিখোঁজ নয়। প্রতিটির অবস্থান জানিয়ে তাদের চিঠি দিয়েছি।’

কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দরের দেওয়া এই তথ্য এখন এনবিআরের সার্ভারের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। কোনো ধরনের অসংগতি পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।