ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে নতুন উদ্যোগ নিতে চলতি সপ্তাহে তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে বসবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত রোববার যুক্তরাষ্ট্রের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আজ মঙ্গলবার ট্রাম্পের এই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। সফরসূচি অনুযায়ী, তাঁর প্রথম বৈঠকটি হবে সম্মেলনের আয়োজক দেশ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে। এছাড়া হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়েছে, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গেও বৈঠক করবেন ট্রাম্প এবং পরবর্তীতে একটি সংবাদ সম্মেলন করবেন তিনি। তুরস্কের আঙ্কারায় আজ ও আগামীকাল ২০২৬ সালের ন্যাটো সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
ট্রাম্পের এই সফর প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে ওই মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, "যুদ্ধ কীভাবে শেষ করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করতে আগামী বুধবার জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে বসবেন ট্রাম্প।"
বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে ওই কর্মকর্তা বলেন, "গত কয়েক মাসে যুদ্ধক্ষেত্র স্পষ্টভাবেই স্থবির হয়ে পড়েছে এবং কোনো পক্ষই খুব একটা অগ্রগতি করতে পারছে না। প্রেসিডেন্ট এই যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য একটি প্রকৃত তাগিদ অনুভব করছেন।"
পাশাপাশি ন্যাটো মিত্র দেশগুলোকে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর আহ্বান জানাবেন ট্রাম্প। এই বিষয়ে ওই কর্মকর্তা জানান, "তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই বার্তা পৌঁছে দেবেন।" তবে বিস্তারিত কিছু না জানালেও তিনি উল্লেখ করেন, সম্মেলন চলাকালে শতকোটি ডলারের প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত চুক্তি ঘোষণা করা হবে।
ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা, এরদোয়ান এবং ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুতের সঙ্গে ট্রাম্পের সুসম্পর্ক একটি সুশৃঙ্খল সম্মেলন নিশ্চিত করবে। তবে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রান্স-আটলান্টিক তিক্ততা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের ন্যাটোর প্রতি প্রায়শই করা সমালোচনার কারণে ইউরোপীয়দের মধ্যে এখনো কিছুটা অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
উল্লেখ্য, ইউক্রেন যুদ্ধে উভয় পক্ষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও ধ্বংসযজ্ঞের বিষয়ে ট্রাম্প অতীতেও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেন রুশ অগ্রগতি ধীর করতে এবং পুতিনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে।






