ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার নতুন দফার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ২৩ জন নিহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার ভোরে চালানো এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও অর্ধশতাধিক মানুষ। চলতি বছরের সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও এই ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটল।

তুরস্কে আসন্ন ন্যাটো সম্মেলনকে সামনে রেখে এই হামলা চালাল মস্কো। এই সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বৈঠকের কথা রয়েছে, যেখানে পাঁচ বছরে গড়ানো এই যুদ্ধের অবসানে নতুন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা আছে। এমন কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই কিয়েভে রাতভর ভারী বোমাবর্ষণ করা হলো। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপ থেকে একই পরিবারের তিনজনের (মা, বাবা ও সন্তান) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ঘাটতির কারণে ইউক্রেন বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। দেশটির বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়ার ছোড়া ২৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের একটিও তারা ভূপাতিত করতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ‘প্যাট্রিয়ট’ ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টরের (ক্ষেপণাস্ত্রবিধ্বংসী অস্ত্র) তীব্র সংকটের বিষয়টিই এই ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জেলেনস্কি আক্ষেপ করে বলেছেন, “যত দিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র মিত্রদের মজুতে পড়ে থাকবে, তত দিন রাশিয়া শুধু আবাসিক ভবন ধ্বংস করতে উৎসাহই পাবে।” ন্যাটো সম্মেলনে তিনি এ বিষয়ে ‘শক্তিশালী সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।

হামলায় কিয়েভের প্রায় ৩০টি আবাসিক ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ঐতিহাসিক পোদিলস্কি এলাকার একটি নয়তলা ভবন প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। রয়টার্সের ফুটেজে দেখা যায়, ভবনের ওপরতলায় কংক্রিটের নিচে মানুষের দেহাবশেষ আটকে আছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা দূরপাল্লার উচ্চ-নির্ভুল অস্ত্র দিয়ে কিয়েভ ও অন্যান্য স্থানে সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। কিয়েভের আশপাশের অঞ্চল ও বন্দরনগরী ওদেসাতেও প্রাণহানি ও আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইউক্রেনও রাশিয়ার ভেতরে ড্রোন হামলা জোরদার করেছে। গতকাল সোমবার বাল্টিক সাগরের বন্দর ভিসোতস্ক ও প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র উস্ত-লুগায় হামলা চালিয়েছে ইউক্রেনীয় বাহিনী।