ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার বারইপুরে কন্যাশিশুকে অপহরণ করে ধর্ষণ ও হত্যার মামলার প্রধান আসামি আনন্দ সর্দারসহ দুজনকে আজ সোমবার দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
আনন্দ সর্দার আজ ভোরে বারুইপুর থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। এর আগে অবশ্য এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রভাস মন্ডল ও দিবাকর সর্দার নামে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রভাস মন্ডলকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর দেওয়া তথ্য থেকে পুলিশ মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দার ও দিবাকর সর্দারের কথা জানতে পারে।
গত শনিবার বিকেলে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বারইপুর থানার ধপধপি এলাকার সূর্যপুর হাটের ১২ বছর বয়সী এক শিশু তার বান্ধবীর বাড়ি যাচ্ছিল। এ সময় পথে স্থানীয় চার তরুণ তাকে অপহরণ করে। অপহরণের পর ওই শিশুকন্যার মা–বাবা বারইপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তবে পুলিশ শিশুর কোনো হদিস পাচ্ছিল না।
গতকাল রোববার ভোরে শিশুর বাড়ির কাছের একটি পুকুর থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা শিশুটির দেহ সড়কের ওপর রেখে অবরোধ কর্মসূচি শুরু করে। একই সঙ্গে রেলপথও অবরোধ করেন এলাকাবাসী।
এ ঘটনার জেরে অশান্ত হয়ে পড়ে বারইপুর। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার জেলা পুলিশ এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বারইপুর, সোনারপুর ও নরেন্দ্রপুর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে।
আজ সোমবার সকালে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার জেলা পুলিশ তদন্তে নেমে প্রথমে প্রভাস মন্ডলকে গ্রেপ্তার করে। প্রভাসকে জেরা করে হদিস মেলে মূল আসামি আনন্দ সর্দার ও দিবাকর সর্দারের।
এ ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা দিয়েছেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড়া হবে না। তিনি বারইপুরের ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুর পরিবারের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান।
আজ ঘটনাস্থলে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও রাজ্যের সাবেক স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় ও দোলা সেনের নেতৃত্বে তৃণমূলের একটি প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির পরিবারের প্রতি শোক জানায়। তাঁরা শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
আজ ঘটনাস্থলে আরও যান সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী। এ ছাড়া শমীক লাহিড়ীর নেতৃত্বে আরেকটি প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থলে যায়। তাঁরাও শিশুটির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে শোক প্রকাশ করে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল বারইপুরজুড়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভ সমাবেশ চলাকালে বিক্ষুব্ধ জনতা সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে ধরে ফেলে। পরে গণপিটুনিতে তাঁর মৃত্যু হয়।
যদিও গতকালই দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার পুলিশ বারইপুরের ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্ব ছয় সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা এইআইটি গঠন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। তদন্তও শুরু হয়েছে।






