ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সোমবার কলকাতায় ‘ভারত কেশরী’ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) বাস্তবায়ন ও সীমান্ত সুরক্ষায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। একই দিনে বারুইপুরে এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার প্রতিবাদে কলকাতায় মোমবাতি মিছিল করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সফরের শুরুতে সোমবার কলকাতার নিউটাউনের ইকোপার্কের ঝিলপাড়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির ১২৫ ফুট উঁচু একটি মূর্তির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন অমিত শাহ। ভূমিপূজার মাধ্যমে এই মূর্তির নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন তিনি। এরপর তিনি ভবানীপুরে শ্যামাপ্রসাদের পৈতৃক বাসভবনে গিয়ে তাঁর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।

সেখান থেকে অমিত শাহ বালিগঞ্জে পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র তারকা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বাসভবনে যান। সেখানে প্রায় ১৫ মিনিট অবস্থানকালে এই অভিনেতার সঙ্গে কলকাতার চলচ্চিত্র নিয়ে সৌজন্যমূলক মতবিনিময় করেন তিনি।

বিকেলে কলকাতার সায়েন্স সিটির পাশে মিলনমেলা ময়দানে আয়োজিত শ্যামাপ্রসাদের জন্মজয়ন্তী উৎসবে যোগ দেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, “শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিন থেকেই বাংলায় নতুন করে ‘সোনার বাংলা’ গড়ার সূচনা হলো। শ্যামাপ্রসাদের স্বপ্ন ও প্রত্যয় নিয়ে তাঁর আদর্শে গড়া দল আজ ক্ষমতায় এসেছে।”

অমিত শাহ অভিযোগ করে বলেন, “কংগ্রেস, বামফ্রন্ট ও তৃণমূল কংগ্রেস—সবাই শ্যামাপ্রসাদের আত্মত্যাগের ইতিহাস ভুলিয়ে রেখেছে। কাশ্মীরকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত রাখতে জীবন উৎসর্গ করা সত্ত্বেও কংগ্রেস তাঁর মৃত্যুরহস্যের কোনো তদন্ত করেনি।”

বিজেপি সরকারের বিভিন্ন সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সিএএ আইন প্রণয়ন করে ভারতে আসা হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দিয়েছে সরকার। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে বিএসএফকে জমি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গুন্ডা দমন আইন পাস এবং কাশ্মীরকে ৩৭০ ধারামুক্ত করা হয়েছে।” ভারতের জাতীয় সংগীত ‘বন্দে মাতরম’-এর রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সার্ধশত জন্মবার্ষিকী এবং শ্যামাপ্রসাদের ১২৫তম জন্মবার্ষিকীকে বাংলার জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয় হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।

এদিকে, অমিত শাহের কর্মসূচির দিনেই কলকাতার রাজপথে নামেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সন্ধ্যায় বারুইপুরে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার প্রতিবাদে হাতে মোমবাতি নিয়ে মিছিল করেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবন থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে ‘জাস্টিস ফর বারুইপুর’ (বারুইপুরের জন্য বিচার চাই) স্লোগান দেওয়া হয়। এর আগে আর জি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদেও একইভাবে ‘জাস্টিস ফর আর জি কর’ স্লোগানে আন্দোলন হয়েছিল।